Wednesday, June 07, 2017

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মিছিলে বিজিবি-পুলিশের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ তিন সংগঠনের

খাগড়াছড়ি: হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে আজ বুধবার (০৭ জুন, ২০১৭) সকালে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর বাজারে কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিনা উস্কানীতে পুলিশ ও বিজিবি’র বর্বরতম ও পাশবিক হামলা এবং গণধরাকপড়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম। তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিনয়ন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে এই বিবৃতি প্রদান করেন।


বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্বঘোষনা অনুযায়ী হিল উইমেন্স ফেডারেশন কল্পনা চাকমা’র চিহ্নিত অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে  খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর বাজারে আজ সকালে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিল। বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি বিনা উস্কানীতে মিছিলে বাধা দেয়, ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তারা মিছিলে আগত শত শত নারীর উপর হামলে পড়ে এবং বর্বরতম ও পাশবিক উপায়ে ভব্যতার কোনো মাত্রা বজায় না রেখে নারীদের মারধর করতে থাকে। নারীরা এই দিকবিদিক পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তাদের পুলিশ ও বিজিবির’র পুরুষ সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। শুধু তাই নয় হামলাকারী বিজিবি-পুলিশ সদস্যরা স্বনির্ভর বাজারের পার্শ্ববর্তী খবংপয্যা গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন জনের বাড়ি ও স্বনির্ভর বাজারে দোকানপাটে তল্লাশি চালিয়ে গণ ধরপাকড় চালায়। এ পর্যন্ত সংগঠনের কর্মী-সমর্থক প্রায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যখন স্বনির্ভর বাজারে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নারী জনতার উপর আক্রমণ করার হচ্ছিল তখন সেখান থেকে মাত্র কয়েকশত গজ দূরে সেটলারদের সংগঠনকে উস্কানীমূলকভাবে পাহাড়ি বসতির কাছে উপজেলা মাঠের কাছে সমাবেশ করতে দেয়া হয়েছে।  সেটলারদের সমাবেশ করতে দেয়া ও পাহাড়ি নারী সংগঠনকে বাধা দেয়ার মাধ্যমে প্রশাসন ঘৃণ্য নজির স্থাপন করেছে বলে নেতৃবৃন্দ বিবৃতি বলেন।

তিন সংগঠন নারী সমাবেশের উপর বিনা উস্কানীতে হামলা অথচ অন্যদিকে পাহাড়ি বসতির কাছে সেটলারদের উস্কানিমূলক সমাবেশ করতে দেয়ার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মত ব্যক্ত করে বলেন, সাম্প্রতিককালে পার্বত্য চট্ট্রগামে একেরপর এক হামলা, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও রমেল চাকমাকে সেনাবাহিনী কর্তৃক অত্যাচার করে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া একইসাথে সেটলারদের দিয়ে যেকোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু দেশের সাধারণ সচেতন জনগণ ও বিশ্ববাসী এই সকল ধরণের নির্যাতন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বিষয়ে সজাগ সতর্ক থাকার কারণে এবং পার্বত্য জুম্ম জনগণের পক্ষে জনগণ সংগঠিত হওয়ায় পরিস্থিতিকে ভিন্নদিকে মোড় নেয়ার জন্য বারবার এই ধরণের হামলা একনাগাড়ে ঘটানো হচ্ছে বলে নেতৃবৃন্দ মত প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ একইসাথে দেশের সকল সচেতন জনগণকে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে যেন কেউ বা কোনো পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে এবং তার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ যেন দেশের মধ্যেও উগ্রবাদী শক্তি তথা সাম্প্রদায়িক পক্ষ মাথাচাড়া দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে লংগুদু, দীঘিনালা হামলা ও আজকের স্বনির্ভরে নারী জনতার উপর পুরুষ পুলিশ ও বিজিবির বর্বরতম পাশবিক অভব্য হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও এর পেছনে কী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তা উদঘাটন করার জন্য বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনসহ পার্বত্য জুম্ম নাগরিক সমাজকে নিয়ে একটি গণতদন্ত টিম গঠন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। একই সাথে হামলাকারী উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক উস্কানীদাতা পুলিশ ও বিজিবি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানান।
উল্লেখ্য,যে, ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান মামলার তদন্তের রির্পোট চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করেন। এই তদন্ত রির্পোট কল্পনা চাকমার বড় ভাই প্রত্যাখান করে আদালতে নারাজী পিটিশন দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বার বার শুনানীর নামে শাসক গোষ্ঠী বিচারিক আদালতকে প্রভাবিত করে অপরাধীদেরকে আড়াল করার জন্য চেষ্টা করছে।
আগামী ৮ জুন, ২০১৭ইং রাঙামাটি পুলিশ সুপারের প্রতিবেদনের উপর কালিন্দী কুমার চাকমার আদালতে যে নারাজী আবেদন করেছেন তার উপর শুনানী হবে। এই শুনানির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন আজকের মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।
—————–


No comments: