Sunday, October 10, 2021

সিন্দুকছড়ির গড়িয়াছড়ি সেনাক্যাম্পে সেনাপ্রধান আসবেন তাই কেটে দেয়া হচ্ছে ক্ষেত, বাগান

গড়িয়াছড়ি (বিকৃত নাম গড়াইছড়ি) সেনাক্যাম্পের সাইনবোর্ড

গুইমারা প্রতিনিধি ।। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি সেনাজোনের অধীন গড়িয়াছড়ি (বিকৃত নাম গড়াইছড়ি) সেনা ক্যাম্পে সেনাপ্রধান আসার অজুহাতে ক্যাম্পের পার্শ্বর্বর্তী পাহাড়িদের কচু ক্ষেত-হলুদ ক্ষেত ও ফলজ-বনজ বাগান কেটে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেনাপ্রধান কবে সেখানে আসবেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিগত ১৫-১৬ বছর আগে জায়গার মালিকদের উচ্ছেদ করে গড়িয়াছড়ি সেনাক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সেনাক্যাম্পটির জায়গার মালিক মংহ্লাসু মারমা (৬৫), পিতা-রুইঅং মারমা ও কংচাই মারমা সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ডেবলছড়িতে বসবাস করছেন। তবে ক্যাম্পের আশে-পাশের স্থানে তাদের ও প্রতিবেশী আরো কয়েকজনের জায়গা রয়েছে। সেসব জায়গায় তারা বাগান-বাগিচা সৃজন করেছেন এবং কচু ও হলুদের চাষ করেছেন।

মংহ্লাসু মারমা অভিযোগ করে বলেন, ‌‘সেনাপ্রধান আসার অজুহাত দেখিয়ে আজ প্রায় এক সপ্তাহ হলো গড়িয়াছড়ি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা প্রতিদিন ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী আমার এবং আমার প্রতিবেশীদের কচুক্ষেত, হলুদ ক্ষেত, কলা গাছ, সেগুন গাছ কেটে ক্ষতি সাধন করছে। এতে আমার প্রায় ১০০টি কলাগাছ, ২ কানি পরিমাণ কচুক্ষেত-হলুদ ক্ষেত এবং জুম চাষের জন্য রাখা প্রায় ৩ কানি পরিমাণ জঙ্গল সেনারা কেটে ক্ষতি করে দিয়েছে’।

কেটে দেয়া কচু ক্ষেতের একাংশ

এছাড়া তার প্রতিবেশী ১. কংচাই মারমা পিতা-মংতুশি মারমা, গ্রাম-ডেবলছড়ি বাজার পাড়া এর ১ কানি পরিমাণ কচুক্ষেত-হলুদ ক্ষেত, ২. অংথোয়াইগ্য মারমা, পিতা-থোয়াইঅং মারমা (গ্রাম-ঐ) এর আধা কানি পরিমাণ কচুক্ষেত ও ৩. থোয়াইগ্য মারমা, পিতা-আরেশি মারমা (গ্রাম-ঐ) এর ১ কানি পরিমাণ জায়গায় রোপনকৃত সেগুন গাছ কেটে ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মংহ্লাসু মারমা বর্তমান ‌গড়িয়াছড়ি সেনাক্যাম্পের জায়গাটা তার ও কংচাই মারমার বন্দোবস্তিকৃত জায়গা দাবি করে বলেন, ‘আগে সেখানে আমাদের ঘর-বাড়ি ছিল। বিগত ১৫-১৬ বছর আগে সেনাবাহিনী জোরপূর্বক আমাদেরকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত জায়গা বাবদে তারা আমাদেরকে কোন টাকাই দেয়নি’।

নোট: নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত ও বাগানের ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

No comments: