""

নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী নিহত

মাইন বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিরা 


নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান), সিএইচটি নিউজ

রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া পাড়া এলাকায় নিজেদের কলা বাগানে কাজ করতে গিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী আরসার পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোণের স্থানীয় তিন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এ নিয়ে আজ পর্যন্ত পাঁচজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারানোর কথা জানিয়েছেন তারা।

মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘুমধুম ইউনিয়নের তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতা, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিজেদের অধিকার, নিরাপদে বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিক জীবিকা থেকেও তারা বঞ্চিত। প্রশাসনকে বহুবার অবগত করা হলেও বাস্তবসম্মত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেছেন, “বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে বহিরাগত সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোর এমন তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অপহরণ, গুম, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা অচল করে দেওয়ার মতো ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অথচ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রতিরোধ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

তারা বাংলাদেশ সরকারের এই নীরবতা ও উদাসীনতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এ মাইন পুঁতে রাখার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করেছেন।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।








0/Post a Comment/Comments