""

স্বাগত নববর্ষ ১৪৩০, নিশ্চিত হোক সবার জীবনের নিরাপত্তা

সিএইচটি নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৩

কালের পরিক্রমায় পুরাতন বছর বিদায় নিয়ে শুরু হলো আরেকটি নতুন বছর। উদিত হলো নতুন বছরের প্রথম সূর্য।

শুভ নববর্ষ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ।

সিএইচটি নিউজের পাঠক, লেখক, সংবাদ সংগ্রহকারীসহ সকলকে জানাই বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আজ নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে বৈ-সা-বি (বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু, বিষু, বিহু...) উসবের তৃতীয় দিন। চাকমারা এই দিনটি ‌‘গোজ্জেপোজ্জে বিঝু/দিন’ হিসেবে পালন করে থাকে। আজকের দিনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনাসহ গ্রামের বয়স্ক মুরুব্বীদের খানা-পিনার আয়োজন করা হয়। অপরদিকে ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের মূল উসব যথাক্রমে ‌‘বৈসুমা’ ও ‘আক্যেই’ পালিত হচ্ছে।

গোটা বিশ্ব এখন এক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বছর জুড়ে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে এখন নানা টানাপোড়ন ও সংকট চলছে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বিশ্বের বুকে এই সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিও মোটেই ভালো নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দমনপীড়ন, খুন-গুম, অন্যায়-অবিচার চলছে। বেড়ে গেছে দুর্নীতি-অনিয়ম, বৈষম্য। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। সবক্ষেত্রে চলছে এক নৈরাজ্যকর অবস্থা। ফলে দিন দিন দেশ এক অরাজকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিরোধী মত প্রকাশকারীদের ওপর দমন-পীড়ন জারি রেখেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন তৈরি করে বিরোধী মত দমন করার পন্থা বেছে নিয়েছে সরকার। এমতাবস্থায় দেশে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। সরকারের উচিত নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো বেশি সংকটজনক। সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবেই চলছে জাতিগত নিপীড়ন। এরই অংশ হিসেবে সেখানে জারি রয়েছে সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দমনমূলক ‘১১ নির্দেশনা’। যার মাধ্যমে পাহাড়িদের ওপর চলছে দমন-পীড়ন, গ্রেফতার, বিচার বহির্ভুত হত্যা, গুম, নারী নির্যাতন ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট দুর্বৃত্তদের দ্বারা বম জাতিসত্তার ৮ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সমানতালে চলমান রয়েছে ভূমি জবরদখল, উচ্ছেদসহ নানা ষড়যন্ত্র। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জাতিসত্তাগুলো এক অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাই, নতুন বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রত্যাশা- সেখানে (পার্বত্য চট্টগ্রামে) ভূমি বেদখল-উচ্ছেদ ও দমন-পীড়নসহ যেসব অন্যায়-অবিচার চলছে সরকার তা অচিরেই বন্ধ করবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে তা যথাযথভাবে সমাধানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

নববর্ষ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। হিংসা-বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত দূরীভূত হয়ে সকলের জন্য নিরাপদ হোক পৃথিবী। নিশ্চিত হোক সবার জীবনের নিরাপত্তা।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments