রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি উত্থাপন দিবসে রাঙামাটির
কুদুকছড়িতে তিন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১:০০টার সময় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম যৌথভাবে এই আলোচনা
সভার আয়োজন করে।
“পূর্ণস্বায়ত্তশাসনই পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র রাজনৈতিক সমাধান” এই
স্লোগানে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিপি’র রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক
দিপায়ন চাকমা ও সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সদস্য জয়েল চাকমা।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কুনেন্টু
চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, গণতান্ত্রিক
যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমা ও ইউপিডিএফ সংগঠক বিবেক চাকমা।
সভা শুরুর পূর্বে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের
স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় পিসিপি নেতা কুনেন্টু চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০ মার্চ স্পষ্টভাবে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং এ অঞ্চলের
১৩টি জাতিসত্তাসহ অপরাপর প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার প্রদানের
বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তিনি নতুন প্রজন্মের ছাত্র-যুব ও নারী সমাজকে
এই ইতিহাস জানার এবং আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ইউপিডিএফ সংগঠক বিবেক চাকমা বলেন, পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার
প্রতিফলন ঘটবে না এমন আশঙ্কা করেই তৎকালীন পিসিপি, পিজিপি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের
নেতৃবৃন্দ ’৯৭ সালের ১০ মার্চ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। চুক্তি নিয়ে
তৎকালীন নেতৃবৃন্দের যে আশঙ্কা ছিল তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছরেও চুক্তি
বাস্তবায়ন হয়নি। তাই, পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি এখন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়েছে। ইউপিডিএফসহ
তার সহযোগী সংগঠনগুলো এই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে
যাচ্ছে। এই লড়াই জোরদার করতে ছাত্র-যুব-নারী সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী রিতা চাকমা বলেন, জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার
সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা অপরিহার্য। নারী সমাজকে পিছনে রেখে অধিকার আদায়ের স্বপ্ন পূরণ
সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো নারীদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং
কোনো সরকারই এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা বলেন, জাতির মুক্তির আন্দোলনের নামে জেএসএস তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে চুক্তিতে উপনীত হলেও তিন গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতারণা ধরতে সক্ষম হয়েছিল। যার কারণে তারা চুক্তির কয়েক মাস আগেই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি উত্থাপন করে জনগণকে নতুন আন্দোলনের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছিল। এই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবিই পরবর্তীতে আন্দোলনকামী জনগণের সামনে নতুন দিশা তৈরি করে এবং বর্তমানে আন্দোলন চলমান রয়েছে। তিনি এ আন্দোলনে সামিল হতে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে দিপায়ন চাকমা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি
স্বাক্ষরিত হলেও তার আগেই ১০ মার্চ তিন সংগঠন পূর্ণস্বায়ত্তশাসনসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন
করেছিল। কিন্তু এসব দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে সেনাশাসন অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতা
ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সংগঠিত আন্দোলনের বিকল্প
নেই।
উল্লেখ্য, জনসংহতি সমিতি যখন জুম্ম জনগণের মূল দাবি থেকে সরে গিয়ে আওয়ামী
লীগ সরকারের সাথে চুক্তিতে উপনীত হতে যাচ্ছিল, তখনই ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ তিন গণতান্ত্রিক
সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি গণপরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ঢাকায়
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেছিলেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


