""

সন্তু দলের ফ্যাসিস্ট নীতি ও জাতিসত্তাগুলোর আন্তঃসম্পর্ক

 


লেখা: মিল্টন চাকমা, সংগঠক, ইউপিডিএফ


কেএনএফের ভাষ্য মতে, গত ১ জুলাই-এর যুদ্ধে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সাথে জেএসএস সন্তু গ্রুপও সরাসরি অংশ নিয়েছিল। সন্তু গ্রুপ কেবল তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেনি, তারা কেএনএফের বিরুদ্ধে সেনা-বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ করেছিল।

কেএনএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেএসএসের সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। অতীতেও তারা সেনাবাহিনীর সাথে মিলে কেএনএফের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল।

জেএসএস ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিগুলোর আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে ভুল নীতি প্রয়োগ করে আসছে। ১৯৮০ দশকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ও শান্তিবাহিনী বান্দরবানে ম্রোদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। আত্মরক্ষার্থে ম্রোরা তখন ম্রো পার্টি গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল।

ফ্যাসিস্টরা কেবল অন্য জাতিগুলোর ওপর দমনপীড়ন চালায় না, তারা স্বজাতির জনগণের ওপরও অত্যাচার চালায়। আজকের সন্তু লারমার জেএসএস হলো একটি পারফেক্ট ফ্যাসিস্ট দল। তারা কেবল ইউপিডিএফসহ অন্যদের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার করে তাই নয়, তারা অন্য জাতিগুলোর ওপরও সুযোগ পেলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালায়। যেমন সন্তু লারমা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিজু শব্দটি অন্য জাতিসত্তার জনগণের ওপরও চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউপিডিএফসহ অনেকের প্রবল বিরোধীতার কারণে তিনি তার এই প্রচেষ্টা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

মূলতঃ জেএসএস সন্তু গ্রুপের ফ্যাসিস্ট নীতির কারণে বান্দরবানে বম জাতির জনগণ কেএনএফ গঠন করতে বাধ্য হয়েছে, মারমারা মগ পার্টি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। ১৯৯৭ সালে যে চুক্তি জেএসএস স্বাক্ষর করেছে, সেখানে বমসহ অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে তারা নিজেদের বঞ্চিত বোধ করতে শুরু করেন।

বর্তমানে সন্তু লারমার এই ফ্যাসিস্ট নীতি আরো জোরদার হয়েছে। তার দল এখন সেনাবাহিনীর সাথে মিলে কেএনএফ ও বম জাতিকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে। লাজলজ্জা ত্যাগ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কেএনএফ বিরোধী সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে।

ইউপিডিএফই একমাত্র দল, যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগুলোর ন্যায়সঙ্গত অধিকারের জন্য নিরলসভাবে লড়াই করে যাচ্ছে। লামায় ত্রিপুরা ও ম্রো জাতির জনগণের জমি বেদখল, তাদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র এবং তাদের ওপর জেল-জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে একমাত্র ইউপিডিএফই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেবল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বললে কম বলা হবে, বরং বলা উচিত এই সংগ্রামে ইউপিডিফই তাদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ২০০৬ সালে চিম্বুক পাহাড়ে ম্রোদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে, ২০০৭-৮ সালে জরুরী অবস্থার সময় বান্দরবানে ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে একমাত্র ইউপিডিএফই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ইঁদুর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে যে পার্টি ম্রোসহ রুমা-থানচি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল সে হলো ইউপিডিএফ। এমনকি ইউপিডিএফ না হলে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় পাহাড়ি ও পুরোনবস্তি বাঙালিরাও আজ উচ্ছেদ হয়ে যেতো। তাদের জমি সেনা ক্যান্টনমেন্ট অধিগ্রহণ করতো। জরুরী অবস্থার সময় অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ নেতৃত্ব দিয়েছে বলেই বালাঘাটার জমি রক্ষা পেয়েছে।

একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল পার্টি সকল জাতির প্রতি সমান, সকল জাতির জনগণের জন্য সে লড়াই করে। ইউপিডিএফ হলো এই রকম একটি দল। ইউপিডিএফের লক্ষ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত সকল জাতিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল জাতির অধিকার নিশ্চিত করতে সংগ্রাম পরিচালনা করা।

জেএসএসের মতো একটি ফ্যাসিস্ট পার্টির পক্ষে সকল জাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সেটা তার লক্ষ্যও নয়। তার লক্ষ্য হলো সেনাশাসকগোষ্ঠীর দালালি করে, এমনকি স্বজাতিসহ অন্যান্য জাতিগুলোকে ধ্বংস করে হলেও আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষা করা।

কিন্তু ইউপিডিএফ সেটা হতে দেবে না। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, চাকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্তাগুলো সন্তু গ্রুপের ফ্যাসিস্ট, বর্বর ও ধ্বংসাত্মক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জুম্ম জাতিগুলোর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের জয় হবেই হবে।

(৪ জুলাই ২০২৬)



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


 





0/Post a Comment/Comments