খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
খাগড়াছড়ি সদরের হবংপোজ্যে এলাকায় স্নেহ কুমার চাকমা'র ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী
উপলক্ষে স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন
এবং এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিকালে আয়োজিত স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি
জেলা শাখার সভাপতি তৃষ্ণাঙ্কর চাকমার সভাপতিত্বে ও তথ্য প্রচার সম্পাদক জেকিন চাকমা
সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত স্নেহ কুমার চাকমার নিকটাত্মীয় শ্রুতিপূর্ণ চাকমা
(অব: উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার), স্নেহ কুমার চাকমার চাচাতো ভাই আলোক বিকাশ চাকমা
ও বিদ্যা পূর্ণ চাকমা (অব: সিনিয়র প্রিন্সিপাল এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয়
অর্থ সম্পাদক মিঠুন চাকমা।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, স্নেহ কুমার চাকমা ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
ও ৪৭-এ দেশভাগের ক্রান্তিলগ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামের অগ্রদূত পাহাড়িদের অবিসংবাদিত
নেতা। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তানের
সাথে অন্তর্ভুক্ত করাকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। যার কারণে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামকে
ভারতের সাথে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
স্নেহ কুমার চাকমা'র সংগ্রামী জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, ১৯১৪
সালে খাগড়াছড়ি হবংপোজ্যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স্নেহ কুমার চাকমা। ১৯২৭ সালে রাঙামাটি
সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্বদেশী আন্দোলনে যোগ
দেয়ায় ছয় মাসের জন্য স্কুল থেকে বহিস্কৃত হন। এরপর ১৯৩২ সালে দশম শ্রেণিতে পাড়ার
সময় মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন ও পুনরায় দুই বছরের জন্য স্কুল থেকে বহিস্কৃত হন।
এছাড়াও তিনি চাকমা যুব সংঘের ঘনশ্যাম দেওয়ান, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী চারু বিকাশ দত্তসহ
অনেকের সাথে কাজ করেন। নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুর সাথেও তিনি যোগাযোগ রাখেন।
সভা শেষে স্নেহকুমার চাকমার স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয় এবং ১ মিনিট
নীরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১৮ জুলাই প্রয়াত হন স্নেহ কুমার চাকমা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।





