চবি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাঙামাটির সাজেকের মাচলং ১৪ কিলো এলাকায় বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে ও ঘটনায় জড়িত বিজিবি সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি
ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে জিরো পয়েন্টে এ সমাবেশের আয়োজন
করা হয়।
সমাবেশে পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য
রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল
চাকমা ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চাকমা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন
পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ভূবন চাকমা।
ছাত্রনেতা সোহেল চাকমা বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হলেও বিজিবি'র গাড়ির ধাক্কায় একজন পাহাড়ি অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনা সমতলের তথাকথিত লেখক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের কাছে স্বাভাবিক ঘটনার মতো হৃদয়ে কোন নাড়া দেয় না। পার্বত্য চট্টগ্রামে এটি কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা নয়; এটি শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্যবাদী জুলুমের নগ্ন দৃষ্টান্ত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত এর
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হয়নি। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সামরিকতন্ত্র
ও সেনাশাসনাধীন থাকা পাহাড়িদের ন্যায়-বিচার না পাওয়ার প্রমাণ। ফলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী
কর্তৃক সেখানে কোন ঘটলা ঘটলে রাষ্ট্র নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য
চট্টগ্রামে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বহু ঘটনার এখনো সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বান্দরবনের বম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন,
বমদের ওপর যৌথ অভিযানের নামে নিশ্চিহ্ন করার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে।
নিরপরাধ সত্ত্বেও আটক বম জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখনো কারা অন্তরীণ রয়েছে। এসব ঘটনাগুলো রাষ্ট্রেরই
পরিকল্পিত। শাসকগোষ্ঠী পাহাড়িদের জাতিগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দিতে চায়। তিনি অন্তঃসত্ত্বা
নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী বিজিবি সদস্যদের চিহ্নিত
করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দেবাশীষ চাকমা বলেন, নিহত সুমন্তি চাকমা সাজেকের দাব আদাম সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর
উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে অতিরিক্ত গতিতে চলা বিজিবির একটি গাড়ি তার বহনকারী
সিএনজিতে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু
হয়।
তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ কোন দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত
হত্যাকাণ্ড। ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকার কারণে এখনো দোষীদের আইনের
আওতায় আনা হয়নি। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে যথাযথ
শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ভূবন চাকমা বলেন, আজকের যে অন্তঃসত্ত্বা সুমন্তি চাকমা
ও ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে যে শিশুটির প্রাণ গেল এটি কোন দুর্ঘটনা নয় এটি হত্যাকান্ড। কারণ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিজিবি বাহিনী ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর
কারণে পিছন থেকে তাদেরকে ধাক্কা দেয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে আজ পর্ষন্ত সড়ক দুর্ঘটনায়
২ হাজারের অধিক মানুষ প্রাণ হারায়। শুধুমাত্র গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং
৪৬৩ জন প্রাণ হারায়।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী
শান্তি ও উন্নয়নের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। ন্যায়ের পক্ষে সাধারণ জনগণ রাজপথে নামতে
পারে না। যারা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে জেল, জুলুম, অত্যাচার
ও হত্যার শিকার হতে হয়।
সমাবেশ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িত বিজিবি সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


