""

লক্ষীছড়িতে জুমে ঢুকে ফসল নষ্ট ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ



লক্ষীছড়ি (খাগড়াছড়ি), সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার জুর্গাছড়ি পাহাড়ে পর্যটক নামধারী কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির (বাঙালি) বিরুদ্ধে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জুমে অবৈধভাবে প্রবেশ, ফসল নষ্ট এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জুমচাষি ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি পর্যটক নামধারী কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি (বাঙালি) যখন তখন জুমচাষীদের জুম এলাকায় প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে চাষকৃত জুমের ফসল মাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে ব্যবহৃত পোশাক, প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ও কনডম ফেলে যাওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডে শুধু জুমের ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

জুমচাষিদের ভাষ্য, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে উৎপাদিত জুমের ফসলই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। একটি মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়ে গেলে তার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারগুলোর জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের দায়িত্বহীন আচরণ তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলছে বলে তারা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পাহাড়ের জুম কেবল কৃষিজমি নয়, এটি তাদের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বিনোদনের নামে কারও ব্যক্তিগত জমিতে প্রবেশ, ফসলের ক্ষতি, অসামাজিক কার্যকলাপ ও পরিবেশ দূষণের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তারা জুম এলাকায় পর্যটকদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থা করারও দাবি জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অবিলম্বে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

এদিকে, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জুমচাষি ও এলাকাবাসী।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লক্ষীছড়ি ইউনিয়ন পারিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, “জুর্গাছড়ি জুম পাহাড় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জুমের ক্ষেত নষ্ট করা-সহ মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে অসামাজিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা “

লক্ষীছড়ি সচেতন যুব সমাজের বরাতে তিনি বলেন, ‘দর্শনার্থীরা নিয়মিত মাদক সেবন করে, যা সামাজিক অবক্ষয়।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমার কাছে ছোট একটি ভিডিও ক্লিপ এসেছে। ভিডিওটি দেখলে কারোর বুঝতে কষ্ট হবে না দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা জুম পাহাড়ে এসে কী করে যাচ্ছে।’

সচেতন মহলের বরাত দিয়ে তিনি ‘জুম পাহাড় বা জুম ঘরে পর্যটক আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।


উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে উক্ত জুম পাহাড়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। জুমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকের নামে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন লোকজন। তারা অনিয়ন্ত্রিতভাবে জুমে ঘোরাফেরা ও ছবি তুলে, ভিডিও ধারণ করে ফসল নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। আর এ জুমকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি মহল প্রবেশ ফি নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের আলামতের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যার জন্য স্থানীয় ও জুমচাষীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments