![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
অনলাইন ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজাবিরাট সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাঁওতালরা।
রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১:০০টায় রাজাবিরাট বাজারে মাঞ্জিহী পরিষদ, রাজাবিরাটের
আয়োজনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ আহ্বান করেন মিল্টন মার্ডি,
রূপ সরেন ও শ্যামবালা হেমব্রম। তারা প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল ও পরে সমাবেশ করেন।
এতে তীর-ধনুক হাতে যোগ দেন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর লোকজন।
বৃটিস সরেন-এর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের
ভাই শফিকুল ও উজ্জ্বলের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলাকে সাঁওতালদের ওপর চাপ সৃষ্টি
ও হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সাঁওতালদের বিরুদ্ধে আনা
এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাই দ্রুত এসব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সাঁওতালরা কারও জমি দখল করে না, চাঁদাবাজি বা চুরি করে না। ভূমি নিয়ে
বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে সাঁওতাল পরিবারগুলোর স্বাভাবিক
জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
বক্তারা আরো বলেন, রাজাবিরাটের সাঁওতালদের ভূমি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাজাবিরাট এলাকায় সাঁওতাল পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, এক সাঁওতাল নারীকে মারধর এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পাশাপাশি সাঁওতালদের ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
সে সময় বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে স্থানীয় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের ভূমি দখল
ও উচ্ছেদের আশঙ্কার কথাও উঠে আসে।
স্থানীয় সাঁওতাল নেতাদের অভিযোগের বরাতে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজাবিরাট এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে সাঁওতালদের প্রায় ২৫০ বিঘা জমি বিভিন্নভাবে দখলে চলে গেছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিকের এক যৌথ বিবৃতিতে রাজাবিরাটে
সাঁওতালদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং জড়িতদের
বিচারের দাবি জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে সাঁওতালদের মধ্যে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও ভয় দেখিয়ে
জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছিল।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সবসময় মামলা ও হামলার ভয় নিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে উপস্থিত সবাই অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার, সাঁওতালদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন বক্তারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী নেতা রিপন বেসরা জয়, তারামনি সরেন, সাহেব মুরমু, মেরিনা
সরেন, জুলিয়াস, কমলেশ সরেন, রূপ সরেন, শ্যামবালা হেমব্রম, অলিবিয়া হেমব্রম, মমতা হেমব্রম
ও শিউলি হেমব্রম।
এছাড়া সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক
আনিসুল রহমান মইনুল, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, রূহুল আমীনসহ অনেকে উপস্থিত
ছিলেন।
সমাবেশে ওরাওঁ সম্প্রদায়ের নেতা মিলন তিগ্যা ও আবিনা টপ্পাও উপস্থিত ছিলেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

