""

শহীদ ভরদ্বাজ মুনি’র স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ তিন সংগঠনের

অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃনির্মাণের দাবি


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমা’র স্মরণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুপাড়ায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনরত তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন—বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

যৌথ বিবৃতিতে তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্মৃতিস্তম্ভটি দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আহূত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা এবং ভরদ্বাজ মুনি চাকমার হত্যাকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত। সেই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো বিশেষ মহল ভরদ্বাজ মুনির স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার ঘটনায় জড়িত বা এর পেছনে নির্দেশনা দিয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।

তারা বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস আজও মানুষের স্মৃতিতে রয়েছে। ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সমাবেশ বানচালের জন্য দীঘিনালায় বিএনপির হরতালের আহ্বান, সমাবেশে হামলা এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলোও সেই ইতিহাসের অংশ। '৯২ ঘটনার ধারাবাহিকতায় সে সময়কার প্রকৃত সত্য ঘটনাকে আড়াল করতে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য শহীদ ভরদ্বাজ মুনির খুনীরা তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে আমরা মনে করছি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়ে তাঁর স্মৃতি, আদর্শ ও চেতনা মুছে ফেলা যাবে না। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের অতীতের নব্বইয়ের দশকে বিএনএপির আমলে সংঘটিত লোগাং, নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা এবং  দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোও সামনে নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনাসমূহও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি ও বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীঘিনালায় ভরদ্বাজ মুনির স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়ার মধ্যে দিয়ে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির অতীতের অন্যায়-অবিচারের চিত্র লক্ষ্য করছি। কাজেই, পার্বত্যবাসীকে সতর্কতা অবলম্বন করে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-সহ সকল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দল, মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শহীদ ভরদ্বাজ মুনির স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং যথাস্থানে স্মৃতিস্তম্ভটি পুনঃস্থাপন বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানান।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।








0/Post a Comment/Comments