""

গুইমারায় তিন শহীদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা, ১৩ অক্টোবর ছাত্র-যুব-নারী-জনতার কনভেনশন ঘোষণা

তিন বীর শহীদের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে স্যালুট জানাচ্ছে এসিসি-এর বাছাইকৃত সদস্যরা, রামেসু বাজার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুইমারা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান” এই শ্লোগানে শহীদ আখ্র মারমা, থৈইচিং মামরা ও আথুইপ্রু মারমার প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণ সভা করেছে শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ। 

স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ‘ছাত্র-যুব-নারী-জনতার কনভেনশন’-এর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। রামেসু বাজারে সেনা-সেটলার হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রথম বার্ষিকীতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। 


স্মরনসভায় ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ এর সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ-এর সভাপতি রুপসা চাকমা (শহীদ জুনান চাকমার মা), ১ নং লক্ষীছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সিন্দুকছড়ি ইউপির সাবেক মেম্বার সুধুঅং মারমা ও দুল্যাতলী ইউপি চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।

স্মরণসভা শুরুর আগে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্র(এসিসি)-এর একটি চৌকস টিম প্যারেড সহকারে তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি বহন করে নিয়ে তা স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করেন। এরপর অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি বহন করে ধীর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে ‘অগ্রসর শিশু-কিশোর কেন্দ্র’ (এসিসি)-এর সদস্যরা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি বহন করে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করছেন ‘অগ্রসর শিশু-কিশোর কেন্দ্র’ (এসিসি)-এর সদস্যরা,  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথমে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ আথুইপুর মা নুনুমা মারমা ও শহীদ আখ্র’র মারমার মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এরপর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা ও শহীদ রুবেল ত্রিপুরার মা, ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে অংক্যচিং মারমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে উষাতন চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষে যথাক্রমে অনিমেষ চাকমা, বরুণ চাকমা ও রেশমি মারমা এবং অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের শিশু-কিশোররা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

শহীদ পরিবার থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার দৃশ্য।




ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।


তিন সংগঠন পিসিপি-ডিওয়াইএফ ও এইচডব্লিউএফ-এর পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।


অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।




তিন বীর শহীদের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে সাইরেন বাজিয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নীরবতা পালন শেষে উপস্থিত সকলকে লড়াই-সংগ্রামের শপথ বাক্য পাঠ করান সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা। একই সাথে স্মরণসভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা সকলেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

শপথ গ্রহণ করছেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।

শপথ গ্রহণ করছেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।

স্মরণসভায় শহীদ জুনান চাকমার মা রুপসা চাকমা বলেন, ২০২৪ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর গুলিতে আমার জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা নিহত হন। জুনান চাকমা আমার বড় ছেলে। শহীদ হওয়ার আগে আমাকে বলে গিয়েছিলেন, “মা, দীঘিনালায় ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এখানেও দিতে পারে, আমাকে পাহারা দিতে যেতে হবে। তুমি ঘুমাও আমি চলে আসব”। কিন্তু সে ফিরে এসেছিল লাশ হয়ে। সেনাবাহিনীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছিল।

 বক্তব্য রাখছেন শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা।

তিনি‌ আরো বলেন, আমার ছেলে শহীদ জুনান চাকমা নিজেকে ও নিজের ভিটেমাটি রক্ষা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এর বিচার আমি এখনো পাইনি। আমি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি আমার ছেলের হত্যার বিচার পাওয়ার কিন্তু আমাকে বারবার নিরাশ হতে হচ্ছে।

তিনি অতিদ্রুত জুনান, রুবেল, অনিক, ধনরঞ্জন ও রামেসু বাজারে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।

প্রবীল কুমার চাকমা বলেন, আপনারা নিশ্চয় জানেন ২০২৫ সালের আজকের এই দিনে কী যে ঘটনা ঘটেছে। যে যুবকদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদেরকে স্মরণ করার জন্য এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য খররৌদ্রে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এখানে এসেছি। আমরা যদি এই পার্বত্য ভূমিতে ভালোভাবে বাঁচতে চাই, নিরাপদে থাকতে চাই, ভবিষ্যত প্রজন্মকে যদি সুখে-শান্তিতে রাখতে চাই, তাহলে শহীদদের স্মরণ করে আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোন আন্দোলন-সংগ্রামের আমাদেরকে সামিল হতে হবে। আমাদের আর এখান থেকে যাওয়ার রাস্তা নাই, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আমরা যদি প্রতিবাদ না করি, ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই সংগ্রাম না করি, তাহলে আমরা এই পার্বত্য ভূমি থেকে বিলীন হয়ে যাবো।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

তিনি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিশ্চয় জানেন আমাদের মধ্যে বিভাজন-শত্রুতা সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে, দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবাদী-লেজুড়বৃত্তি-সংঘাত বেড়ে যাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ আর নিরাপদে বাড়িতে থাকতে পারছি না। রাস্তাঘাতে আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি না। এখান থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। দালালীপনা-লেজুড়বৃত্তি যারা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে সমাজচ্যুত করতে হবে। সমাজে তাদেরকে স্থান দেবেন না।  

রতন বিকাশ চাকমা বলেন, ২০২৫ সালের এই দিনে খাগড়াছড়িতে আমাদের বোন ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনজন শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাই আমাদের বসে থাকলে চলবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য, আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অবশ্যই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। লড়াই-সংগ্রাম ব্যতীত আমাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না- এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আমাদের পাহাড়ি জনগণের ওপর সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে যেভাবে নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে, যেভাবে আমাদের ঘরবাড়ি পুড়ে দিয়ে ঘরছাড়া করছে, যার কাারণে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরকে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হবে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।  

সুধুঅং মারমা বলেন, গতবছর ২৮শে সেপ্টেম্বর নারী ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে আজকে এই স্মরণসভা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত করা হয়েছে। শত শত মা-বোনদের সম্ভ্রম লুট করা হয়েছে, ভিটেমাটি দখল করা হয়েছে, যার কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার আমরা পাইনি।

তিনি রামেসু বাজারের অগ্নিসংযোগ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানান।

স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন দুল্যাতলী ইউপি চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা।

ত্রিলন চাকমা বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমরা বেঁচে রয়েছি। আমরা সব সময় জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কথা বলেছি। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার বার বার বিচ্ছিন্নবাদী তকমা দিয়ে আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে চায় না। আজকে এখানে যে স্মরণসভা করা হচ্ছে, এই ঘটনাও গত বছর এক ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনানো হয়েছে। একজন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার, কথা বলার অধিকার রয়েছে, এটা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু যখন কোনো অন্যায় দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা হয় তখন বিচ্ছন্নতাবাদী তকমা দিয়ে বলপূর্বকভাবেব আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। গত বছর যে ৩ জন শহীদ হয়েছেন তাদের রক্তের দাম সরকার পরিশোধ করতে পারবে না।  

তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় মুছে দেয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকতে চাই, আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি তিন শহীদের আত্মবলিদানের চেতনা ধারণ করার আগামীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রেশমি মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচারব্যবস্থা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যেখানে ধর্ষিতা বোনের বিচার চাইতে গিয়েও আমাদেরকে জীবন দিতে হচ্ছে। প্রশাসন ধর্ষকদের গ্রেফতার না করে উল্টো ভিকটিমকে নানান চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে।

তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, দেশে এমন এক বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব। এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা বাড়িতে যেকোনো জায়গায় আজ নারীরা নিরাপদ নয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়িদের ন্যায্য অধিকার না থাকার কারণে আজকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়। ১৯৯৬ সালে কল্পনা চাকমাকেও অধিকারের কথা বলতে গিয়ে লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক অপহরণ ও গুমের শিকার হতে হয়েছিল। যার হদিস আমরা এখনো পাইনি। তিনি রামেসু বাজারের হত্যাকাণ্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উষাতন চাকমা বলেন, বোনের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন আখ্র-আথুই ও থৈইচিং মারমা। একই সাথে রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

তিনি আরো বলেন, তিন ভাইকে মেরে দোকানপাট পুড়ে দিয়ে সেনাবাহিনী সম্প্রীতির কথা বলেন যা মূলত ‘গরু মেরে জুতা দানের’ মতো।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদেরকে দিনে-দুপুরে পাখির মত গুলি করে কীভাবে শান্তি স্থাপন হবে? জায়গা জমি দখল করে নিয়ে কীভাবে সম্প্রীতি বজায় থাকে? আমাদেরকে নিজের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ করে কীসের উন্নয়ন করা হচ্ছে? এমন শান্তি-সম্প্রীতি- উন্নয়ন পাহাড়িরা চায় না।

 উষাতন চাকমা কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। 

তিনি বলেন, দালালি লেজুড়বৃত্তি করে অধিকার আদায় হয় না। অতীতেও কুজেন্দ্র, দীপংকর তালুকদারের মতো মন্ত্রীরা পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারেনি। তারা নিজেদের স্বার্থে সবকিছু বিক্রি করেছিল শাসকশ্রেণীর হাতে। তিনি যারা দালালি করছেন তাদেরকে হুশিয়ার করেন এবং সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

পাহাড়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি শাসকশ্রেণীর সৃষ্টি মন্তব্য করে তিনি বলেন, পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি পাহাড়িরা তৈরী করেনি, সেনা-শাসকশ্রেণীই তৈরি করেছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও শাসকশ্রেণীর কাছে।তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। এটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে কেন পাহাড়ের মানুষ পছন্দ করে না তা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র গরু মেরে জুতো দান করে দালালদের ভালোবাসা আদায় করতে পারলেও পাহাড়ের মানুষের ভালোবাসা আদায় করতে পারবেন না। পাহাড়ের মানুষের ভালোবাসা আদায় করতে হলে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ঘটনাবলীর যথাযথ ও সুষ্ঠু তদন্ত-বিচার করতে হবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত সংঘটিত খুন, ধর্ষণের বিচার দাবি করেন।

স্মরণসভা থেকে উষাতন চাকমা আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৬, পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবসে ছাত্র-যুব-নারী-জনতার কনভেনশনের ঘোষণা দেন এবং এতে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।


স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের একটি প্রতিবাদী নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে আখ্র-আথুই-থৈইচিং-এর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়।

এরপর অগ্রণী শিশু কিশোর কেন্দ্র (এসিসি) শাসকশ্রেণীর দালাল, সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।

জনগণের শত্রু দালাল ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকায় শিশু-কিশোরদের ক্ষোভ প্রকাশের দৃশ্য, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ 

এক কিশোরকে তীব্র ঘৃণায় জনগণের শত্রুর কুশপুত্তলিকায় লাথি মারতে দেখা যাচ্ছে।


জনগণের শত্রু দালাল ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকায় শিশু-কিশোরদের ক্ষোভ প্রকাশের দৃশ্য, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫) ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে জুম্ম জনতার ডাকে সড়ক অবরোধ পালন করতে গিয়ে গুইমারার রামেসু বাজারে সেনাবাহিনী ও সেটলার বাঙালিরা রামেসু বাজারে পাহাড়িদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিতে আখ্র মারমা, আথুইপ্রু মারমা ও থৈইচিং মারমা শহীদ হন এবং গুরুতর আহতসহ আরো অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন। সেটলার বাঙালিরা অগ্নিসংযোগ করে রামেসু বাজারে পাহাড়িদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments