""

সন্তু গ্রুপের হুমকি উপেক্ষা করে সাজেকে বিশাল বিক্ষোভ : ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে না নিলে পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নানা হুমকি উপেক্ষা করে রাঙামাটির সাজেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি।

সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে না নিলে সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহষ্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টার সময় সাজেক উজোবাজারে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের আগে গঙ্গারাম লাদুমনি বাজার হতে তিন সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগানে সন্তু গ্রুপের হুমকিসহ অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ জানান। এছাড়া তারা বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। মিছিলটি পর্যটন সড়ক হয়ে উজোবাজার এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

‍‍“নিরাপত্তা বাহিনীর মদত ও পৃষ্ঠপোষকতায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাজেকে অবস্থান ও সাধারণ জনগণকে হত্যার হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে” এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমার সভাপতিত্বে ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য নিবেশ শান্তি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় চাকমা, সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির সহ-আহ্বায়ক মিলন চাকমা, সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জিকো চাকমা ও সাজেক নারী সমাজের প্রতিনিধি নিরুপা চাকমা।

সমাবেশে বিনয় চাকমা বলেন, ‌‘শাসকশ্রেণির ইন্ধনে সাজেকে সেটলার বাঙালিরা ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্র করেছিল। সাজেকবাসীর আন্দোলনের ফলে আমাদের ভূমি রক্ষা করেছি। সাজেকে আবারো ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণের নেতৃত্ব শূন্য করতে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দিয়ে এলাকার মুরুব্বী ও প্রতিবাদকারী নেতৃবৃন্দকে হত্যাসহ নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

বাবুধন চাকমা বলেন, রাষ্ট্রীয় একটি বিশেষ মহলের মদদে সাজেকে জেএসএস-এর নাম দিয়ে একটি সশস্ত্র গ্রুপ অবস্থান করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তারা আমাকেসহ জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বী ও প্রতিবাদকারী জনগণকে নানা তকমা লাগিয়ে দিয়ে মৃত্যুর হুমকি প্রদান করছে। কিন্তু প্রশাসন এসব জেনেও না জানার ভাণ করে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিয়ে সাজেকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।

তিনি যে কোন মূল্যে সেই অবরোধ সফল করতে এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

জিকো চাকমা বলেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাকে-সহ সাজেকের বহু মুরব্বীকে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকিতে সাজেকবাসী দমিয়ে যাবে না। অন্যায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে আমি মরতে প্রস্তুত। এক জিকো মরলে দশ জিকো প্রতিবাদ করবে।

তিনি জেএসএসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদেরকে হুমকি না দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে জন্য আন্দোলন করেন। সাজেকবাসী সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে সহযোগিতা করবে।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপকে মদতদান বন্ধ করুন। তাদের সশস্ত্র তৎপরতা ও হুমকি-ধমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিন। অন্যথায় সাজেকের জনগণ আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। সাজেক পর্যটন অবরুদ্ধ করা হবে।

সাজেক নারী সমাজের প্রতিনিধি নিরুপা চাকমা বলেন, আমরা জানি পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে কোন দলটি প্রকৃত অর্থে জনগণের জন্য আন্দোলন করছে। যে দল বা সংগঠন জনগণের পক্ষে কাজ করবে সাধারণ জনগণ সে দলকে সহযোগিতা করবে। দলগুলোর মধ্যে নানা মতপার্থক্য থাকবে, তাই বলে কাউকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থামিয়ে রাখা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, এ সাজেককে রক্ষার জন্য আমাদের বহু আন্দোলন করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এই সাজেককে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।  

মিলন চাকমা বলেন, সাধারণ জনগণ জাতিগত সংঘাত চায় না। এ জাতিগত আন্তঃসংঘাত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে স্বজাতি ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন হুমকির শিকার হতে হয়। এটা অবসান হওয়া প্রয়োজন।

তিনি সাজেকের জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নতুন জয় চাকমা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন চলছে। শাসকগোষ্ঠী ‌‘ভাগ করো শাসন করো’ নীতির মাধ্যমে আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে শাসন-শোষন চালাচ্ছে। ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে রেখেছে।

তিনি সরকার-শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় জেএসএসের নামে একটি পক্ষ সশস্ত্র তৎপরতার মাধ্যমে সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে বলে উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। যদি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়কটি অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করে দেয়ার জন্য সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দুয়েকদিন আগে থেকে নানা হুমকি-ধমকি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে। গতকাল (৭ অক্টোবর) তারা যানবাহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে মোবাইলে কল করে সমাবেশের জন্য কোনো গাড়ি দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ ও হুমকি প্রদান করে। তবে তাদের এমন হুমকি উপেক্ষা করে সাজেকের তিন সহস্রাধিক মানুষ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments