""

সরকারি প্রতিনিধি দলের অনড় অবস্থানের কারণে সাজেকের বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে: মাইকেল চাকমা

 গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সাজেকের উজো বাজারে সাাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন সরকারি দলের প্রতিনিধিরা।  

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমের শিকার ইউপিডিএফের সংগঠক মাইকেল চাকমা সাজেক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরকারি প্রতিনিধি দলের অনড় অবস্থানকে দায়ি করেছেন।

গত ২৬ অক্টোবর (২০২৬) সাজেকের উজো বাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সাথে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মাইকেল চাকমা রেকর্ড করা এক ভিডিওতে বলেন, ‘সরকারী প্রতিনিধি দলের অনড় অবস্থানের কারণে গতকালের (২৬ অক্টোবরের) বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠকে তারা জনগণের পক্ষ নিতে পারেনি, সাজেকবাসীর ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের পক্ষ হয়ে কথা বলতে পারেনি। তারা বরং স্পষ্টতই জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সাজেকবাসী অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু সরকারি প্রতিনিধি দল তাদের মূল দাবি অর্থাৎ সাজেক থেকে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি পূরণে কোন প্রতিশ্রুত দেয়নি। বাকি দাবিগুলোও পূরণ করার মৌখিক আশ্বাস দেয় মাত্র। সরকারি প্রতিনিধিরা সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র দলটিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে এক মাস ও পরে তিন সপ্তাহ সময় চায়। এটা ছিল সাজেকবাসীকে বোকা বানানোর জন্য তাদের একটি কূটচাল। কেন কূটচাল সে সম্পর্কে বলছি।

‘অনেকে হয়ত জানেন না, ২০২৪ সালেও একবার জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র দলকে সাজেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর উপরের নির্দেশে ৩ ঘন্টার নোটিশে জেএসএস তার এই সশস্ত্র গ্রুপটিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। সে সময় তারা প্রকাশ্য দিবালোকে পর্যটন সড়ক দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল।

‘কাজেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, যদি ২০২৪ সালে ৩ ঘন্টার নোটিশে জেএসএস সন্তু গ্রুপকে তার সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে এখন কেন সেটা করা হচ্ছে না? এখানে কোন দূরভিসন্ধি লুকিয়ে আছে?

‘বৈঠকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির প্রশ্নে অনেক ছাড় দিয়েছে। তারা তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ দিন সময় দেয়। এমনকি যদি উক্ত সময়ে তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়, তাহলে সময় আরও বাড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও সরকারি প্রতিনিধিরা তাতে রাজী হয়নি।’

মাইকেল চাকমা সাজেকের চলমান সংকটের সমাধানের চাবি রাঙামাটিতে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সাজেকের চলমান সংকট সাজেকে হলেও তার সমাধানের তালা-চাবি সাজেকে নয়, রাঙামাটিতে। জেএসএস সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা যদি হন সমস্যার তালা, তাহলে ডিজিএফআই হলো সমাধানের চাবি। তাই একমাত্র ডিজিএফআই ও সন্তু লারমাকে চাপ দিয়ে তার সশস্ত্র গ্রুপটিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করার মধ্যেই সাজেক সংকটের সমাধান পাওয়া যাবে।’



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments