খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ে উদ্বেগ জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের
তদন্ত কমিটি গঠন করে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত ও উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের
দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
(পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা সংবাদ মাধ্যমে
দেয়া এক বিবৃতিতে এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ দাবি জানান।
নেতৃদ্বয় বলেন, আজ সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত
সময়গুলোর তুলনায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে গড় পাসের হার মাত্র
৩৪.৮৩ শতাংশ। জেলাভিত্তিক ফলাফলে খাগড়াছড়িতে পাসের হার ২৯.৮৫ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩.২৪
শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১.৪২ শতাংশ। এরপূর্বে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও পার্বত্য
চট্টগ্রামে একই চিত্র দেখা গেছে। তারা বলেন, এই ফলাফল দেশের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ের
এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অবহেলা, বৈষম্য ও কাঠামোগত সংকটের
ধারাবাহিক প্রতিফলন।
তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার এই বিপর্যয়ের পেছনে রাষ্ট্রের
দীর্ঘদিনের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বহীনতাই অন্যতম কারণ। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
গোয়েন্দা নজরদারি, সাজেকে কলেজ নির্মাণ ও পরিচালনায় সেনাবাহিনীর বাধা, পার্বত্য জেলা
পরিষদের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, প্রয়োজনীয় কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সম্প্রসারণে অনীহা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়মের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ
বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের পার্বত্য
চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি করার প্রবণতাও শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব
ফেলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব, প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান
ও ব্যবহারিক শিক্ষা ল্যাবের সংকট, শিক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতা ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা,
সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাক্রমের অনুপস্থিতি।
পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয়
বলেন, ২০১৭ সালে সরকার কর্তৃক ৫টি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় বই-পুস্তক প্রদান করা হলেও
এখনো তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা, পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন,
পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে পাহাড়ি শিশুরা মাতৃভাষায় প্রাথমিক
শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা সংকট ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার
কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি
তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও পড়ছে। তারা বলেন, শুধুমাত্র ৫টি ভাষায়
যথেষ্ট নয় দেশে বসবাসরত ৪৫টির অধিক জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার্থে সকল ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশে
কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
তারা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার
সুযোগ নেই; এর পেছনে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ও নীতিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয়
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা
নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিতকরণ এবং উচ্চপর্যায়ে তদন্ত
কমিটি গঠন করে শিক্ষার সংকট ও সমস্যা নিরসনের জন্য সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের
দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
