![]() |
| সংগৃহিত ছবি |
বিশেষ প্রতিবেদক, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের ভাইবোনছড়ায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের
(সেটলার) মধ্যে সৃষ্ট জমি বিরোধ বামে লংগদু সেনা সাবজোনের কর্মকর্তার উদ্যোগে মীমাংসা
করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে ভবিষ্যতে আবারো জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পথ খোলা
রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যে এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয় সেখানে রঞ্জন্যা চাকমা ও রেলী কুমার
চাকমা নামে দু’জনের পাশাপাশি চৌহদ্দীর মধ্যে প্রত্যেকের ৪ একর করে ৮ একর পরিমাণ টিলা-জমি বন্দোবস্তি হিসেবে জবানবন্দি
ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ওই জমিটি সেটলার মো. জসিম, মো. খোরশেদ আলম, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাত্তার, মো. জয়নাল গংরা নিজেদের মালিকানা দাবি করলে বিরোধ দেখা দেয়।
২০১৮ সালে সেটেলার মো. সাত্তার ও মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একদল
সেটেলার বাঙালি রেলী কুমার চাকমার ভূমি জবর-দখল করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। সে সময় জায়গার মালিক রাঙামাটি যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ আদালতে একটি সিভিল মামলা দায়ের করেন,
যার মামলা নং- ৩৬৪/২০১৮। আদালত পরে আদেশ নং- ২৩, তারিখ- ০৩/১১/২০২৪ মূলে রেলী কুমার
চাকমার পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং উক্ত রায়ের কপি ১৯/০৮/২০২৫ তারিখে সংগ্রহ করে লংগদু
উপজেলা প্রশাসনকেও অবগত করা হয়। তৎসময়ে লংগদু জোন কমান্ডার এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ
উদ্যোগে এবং আদালতের আদেশে উক্ত সমস্যার সমাধান করা হয় বলে জানা যায়।
কিন্তু উক্ত সমাধান ও আদালতের উক্ত আদেশ উপেক্ষা করে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে আনোয়ার
টিলা নামক এলাকায় বসবাসকারী সেটলার মো. সাত্তার ও মো. জয়নালসহ একদল সেটলার বাঙালি পূনরায়
উক্ত এলাকায় প্রবেশ করে রঞ্জন্যা চাকমার মালিকানাধীন জমিতে জঙ্গল পরিষ্কার করতে শুরু
করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় এক যুবক সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে প্রকাশ করলে ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরে ওই যুবককে বামে লংগদু সাবজোনে ডেকে পাঠিয়ে ‘কেন তাদেরকে না জানিয়ে ভিডিও
করা হয়েছে’ এমন কথা বলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মোবাইল থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য
করা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভিডিও ধারণ না করে সেজন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি
করা হয়।
এই জমি বিরোধের বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর বামে লংগদু সাবজোনে
জমির মালিকানা দাবি করা উভয় পক্ষকে (পাহাড়ি ও সেটলার) এবং এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য
ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে জমি নিয়ে বিরোধী মীমাংসার জন্য এক সভার আয়োজন করা হয়। এতে আলোচনার
ভিত্তিতে জমির পাহাড়ি মালিকগণ তাদের বন্দোবস্তির দলিলপত্রাদি উপস্থাপন করলে সাব-জোন
কমাণ্ডার সেগুলো দেখে জায়গাটি পাহাড়ি মালিকদের বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
এছাড়া বাঙালিদের উদ্দেশ্যে তিনি “আমরা কাউকে জমি দেয়ার মালিক নয়, জমি দেয়ার
মালিক সরকার। আপনাদেরকে সরকার এখানে এনেছে সরকারই আপনাদের জমি দেবে” এমন কথাও বলেন
বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সভায় তিনি বাঙালিদেরকে উক্ত জমি দাবি না করার এবং সেখানে প্রবেশ না করার
নির্দেশও প্রদান করেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
তবে এরপরও তিনি (সেনা কমান্ডার) জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার মতো একটি পথ খোলা রেখে
দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আরো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সেনা কমান্ডার বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে পাহাড়ি মালিকদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলেও তিনি
বাঙালিদেরকে (সেটলার) জমির মালিকানা দাবি বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী আদালতে
আইনি সহায়তার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
তাঁর এই পরামর্শ মেনে সেটলার বাঙালিরা হয়তো আদালতে দ্বারস্থ হয়ে আবারো জমি সংক্রান্ত
বিরোধ উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাহাড়িরা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
