বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি
এসোসিয়েশনের ডাকা তৃতীয় দফার অবরোধ ৮ম দিনে গড়িয়েছে। সরকারি প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের
সাথে বৈঠক করলেও কাটেনি অচলাবস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে বাঘাইহাট ১০ নম্বর, মাচলং ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর তৃতীয় দফায় এ অবরোধ শুরু হয়। সেদিন শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে
সাজেকের উজোবাজারে সেনাবাহিনী অবরোধকারী জনতার ওপর হামলা চালায় ও বেপরোয়া লাঠিপেটা
করে। এছাড়া সেনা সদস্যরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ভীতি সৃষ্টি করে। এ হামলায় কয়েকজন গুরুতর
আহতসহ ৭০ জনের অধিক নারী-পুরুষ আহত হন।
এর আগে ৯ অক্টোবর ও ১৫ অক্টোবর তারা দু’ দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
প্রথম দফা অবরোধের দিন বাঘাইহাট সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক সালমান সিদ্দিকসহ সাজেক থানা
পুলিশের কর্মকর্তারা উজো বাজারে অবরোধকারীদের সাথে কথাবার্তা বলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সাজেকের
মাচলঙের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে
নেওয়াসহ তিন দফা দাবি বা শর্ত মেনে নিলে অবরোধ স্থগিত করা হয়। কিন্তু উক্ত সময়সীমার
মধ্যে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন দাবি পূরণ না করায় পরে তারা আবার ১৫ অক্টোবর অবরোধ পালন
করেন। পরে দুর্গাপূজার কারণে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা
হয়।
উক্ত সময়ের মধ্যেও প্রশাসন তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তারা ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন শান্তিপূর্ণ অবরোধে সেনাবাহিনী হামলা চালালে তাদের দাবি তিন দফা থেকে ৫ দফায় উন্নীত হয়।
বর্তমানে তাদের দাবিগুলো হচ্ছে: ১। ক) গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শান্তিপূর্ণ
অবরোধকারীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
খ) হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সালমান
সিদ্দিক এবং মাচালং ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন খন্দকার মেহেদী হাসানকে শাস্তি প্রদানসহ
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলি করতে হবে।
গ) গোলাগুলির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা
আরও ১,০০০ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
ঘ) ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২। উজো বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে সৃষ্ট
ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে উজো বাজার থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের
সদস্যদের প্রত্যাহার করতে হবে।
৩। সেনাবাহিনীর মারধরে আহত নারী-পুরুষের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ
করতে হবে।
৪। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সাজেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ করা জেএসএস
সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস,
চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।
৫। আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা
যাবে না। একই সঙ্গে তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো থেকে বিরত থাকতে
হবে।
সাজেক চলমান সংকট নিরসনের জন্য গত ২৬ অক্টোবর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই
এমপিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল উজো বাজারে গিয়ে
আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিরা চারটি দাবি মেনে
নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলেও জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় বৈঠকটি কোন সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে
আরও বৈঠকে বসার ব্যাপারে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে এর মধ্যে আর কোন বৈঠক
অনুষ্ঠিত হয়নি এবং বৈঠক হবে কিনা তাও জানা যায়নি। ফলে সাজেকে চলমান অচলাবস্থা এখনো
কাটেনি।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন,
সাজেকে চলমান সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের
মাচলং এলাকায় নিয়ে এসে তাদেরকে দিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাস চালানোর কারণে। সেজন্য তাদের
মূল দাবিটি হচ্ছে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের তাদের আগের সাংগঠনিক এলাকায় সরিয়ে নিয়ে
এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা। সেটা পূরণ হলেই তারা অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি
বিবেচনা করবেন। কিন্তু সরকার দাবি পূরণে কালক্ষেপণ করায় জটিলতা কাটছে না।
তিনি অবিলম্বে সকল দাবি মেনে নিয়ে সাজেকের চলমান সংকট নিরসন করার জন্য সরকার
ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় অবরোধ চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর
কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে তারা জানিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

