""

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের আধাবেলা অবরোধ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে: ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকে জেএসএস (সন্তু গ্রুপের) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ পালনকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবরোধে রাঙামাটি জেলায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং খাগড়াছড়ি জেলা সদর, খাগড়াছড়ি-ঢাকা ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ৪০টির অধিক স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে পিকেটিং করা হয়েছে। তবে পানছড়িতে জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর সশস্ত্র সদস্যরা অবরোধ পালনে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেছে। 


অবরোধের সময় দুই জেলায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। শহর থেকে দূরপাল্লার কোন বাসও ছেড়ে যায়নি। 

এদিকে, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করার জন্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ এবং যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বাস।

অবরোধের সমর্থনে রাঙামাটির নৌপথেও নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাজেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাস ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে দুই জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। তবে পানছড়ির উপর পুজগাঙ এলাকায় জেএসএস (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা অবরোধকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে।


তিনি আরও বলেন, “সাজেকে সন্ত্রাস ও উৎপাতের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণ করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সেনা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, “সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, তাদেরকে সশস্ত্র সন্ত্রাস চালানোর লাইসেন্স দিয়ে, উল্টো যারা সন্ত্রাসীর জুলুম-অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার আর্জি জানাচ্ছে তাদেরকে লাঠিপেটা করা ও তাদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হলো এমন অন্যায়, যা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। যে সরকার, যে বাহিনী আইনের শাসনের কথা বলে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে, সে সরকার ও সে বাহিনীর কাছ থেকে আমরা এমন আচরণ আশা করি না।”

বিবৃতিতে উষাতন চাকমা বলেন, সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে সাজেক তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাই সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments