""

বর্মাছড়িতে সেনা অভিযানে অসুস্থ শিশুকে ওষুধ সেবনে বাধাদান ও দুই নিরীহ ব্যক্তিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে লক্ষীছড়িতে গণবিক্ষোভ


লক্ষীছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষীছড়ির বর্মাছড়িতে সেনা অভিযানের নামে অসুস্থ শিশুকে ওষুধ সেবনে বাধাদান, নিরীহ ২ ব্যক্তিকে মারধর ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে দাগী সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে লক্ষীছড়িতে গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১টায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ যৌথভাবে এই গণবিক্ষোভের আয়োজন করে।

লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নের যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া পাকা রাস্তামাথা থেকে গণবিক্ষোভ শুরু করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি সড়ক হয়ে বাদিপাড়া পর্যন্ত ঘুরে আবার পাকা রাস্তামাথায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়।



মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের প্রতিনিধি মেরিনা চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের লক্ষীছড়ি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এলি চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের লক্ষীছড়ি উপজেলা সভাপতি প্রাচুর্য চাকমা ও এলাকার যুব প্রতিনিধি কেএসমং মারমা।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩ অক্টোবর লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়া ও বৈদ্য পাড়ায় সেনাবাহিনী অভিযানের নামে যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি করেছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল। সেনারা একজন অসুস্থ শিশুকে পর্যন্ত ওষুধ খাওয়াতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, সেনারা বাড়িতে অসুস্থ শিশুটিকে দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা তার দাদু বৃষ কুমার চাকমাকে নির্যাতন করেছে ও ধরে নিয়ে গিয়ে হয়রানি করেছে। জনৈক সেনা কমান্ডার তাকে বলেছে, “তোমার নাতি মারা গেলেও ওষুধ-পান খাওয়ানো যাবে না!” এর চেয়ে নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে?

বৈদ্য পাড়া ছাড়াও সেনারা দেওয়ান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বসন্ত চাকমাকেও নিজ বাড়িতে অমানুষিকভাবে মারধর করে জখম করেছে এবং তাকেও ধরে নিয়ে হয়রানি করেছে। সেদিন এলাকার নারীরা প্রতিবাদ না করলে হয়তো তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হতো।

তারা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর পাহাড়িরাও নিপীড়নমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের আশা করেছিলেন। কিন্তু তার বদলে এ অঞ্চলের মানুষ পেয়েছে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা, হত্যাকাণ্ড ও সেনা নির্যাতন-হয়রানি। ড. ইউনূস সরকার যা করেছে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারও একই পন্থায় পাহাড়িদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। গত ৩ অক্টোবরের নির্যাতন-হয়রানির ঘটনা তারই উদাহরণ।

বক্তারা দাগী সন্ত্রাসী মুখোশদের সাথে নিয়ে সাধারণ জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী নিজেরা অস্ত্রধারী মুখোশ সন্ত্রাসীদের লালন পালন করে এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে আবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কথিত ‘সন্ত্রাসী’ খুঁজে অপারেশন চালায়। এভাবে তারা সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ভীতির মধ্যে রেখেছে। জনগণের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। ফলে জনগণ সবসময় ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বক্তারা অবিলম্বে বর্মাছড়িতে সেনা অভিযানের নামে অসুস্থ শিশুকে ওষুধ খাওয়াতে বাধাদান ও নিরীহ দুই ব্যক্তিকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সেনা কমান্ডার ও মুখোশ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক শাস্তি প্রদান, দাগী সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে সেনা অভিযানের নামে জনগণের ওপর নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’ তুলে নেওয়ার দাবি জানান।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments