""

সাজেকে চিকিৎসায় যাওয়ার পথে সেনা ক্যাম্পে নামিয়ে লাদেন চাকমাকে অমানুষিক নির্যাতন!


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকে চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়িতে যাওয়ার পথে সেনাক্যাম্পে নামিয়ে লাদেন চাকমা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টার সময় উজোবাজারের পার্শ্ববর্তী কাচলং ক্যাম্পে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

এর আগে গত ২২ অক্টোবর উজোবাজার এলাকায় শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধের দিনও সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাদের চাকমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল।

ভুক্তভোগী লাদেন চাকমা সাজেক ইউনিয়নের সুরুংনালা গ্রামের বাসিন্দা মৃত চন্দ্র চাকমার ছেলে।

জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী হামলা চালায় এবং অবরোধে অংশগ্রহণকারীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিপেটা করে ও গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাদেন চাকমাকে ধরে বেদম মারধর করে। এতে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সকাল ১০টার সময় অটোরিক্সাযোগে তাকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেওয়ার পথে উজোবাজারের পার্শ্ববর্তী সেনাক্যাম্পে (কাচলং ক্যাম্প) আটকিয়ে সেখান লাদের চাকমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। 

সেনাদের নির্যাতনে তিনি ঘোরতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। সেনাদের লাঠির আঘাতে তার উরুতে রক্ত জমে চামড়া কালো হয়ে গেছে। তিনি ঠিকমত উঠাবসা করতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী লাদেন চাকমা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি গত বৃহস্পতিবার অবরোধে অংশগ্রহণ করি। সেদিন আর্মিরা আমাকে ধরে বেধড়ক মারপিট করে। এরপর আমি সেখান থেকে পালিয়ে যাই। ২/৩ দিন ধরে আমি সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারিনি। আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। সেজন্য আমি আজকে খাগড়াছড়িতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। যাবার পথে আর্মিরা উজোবাজার কাচলং ক্যাম্পে আটকিয়ে আমাকে বেদম মারধর করেছে।’

সেনারা তাকে শুধু মারধর করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা পরিবারসহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করে তাকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী লাদেন চাকমা। পরে সেনারা তাকে ছেড়ে দিলেও তারা আবার তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার বাড়িতে গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, লাদেন চাকমাকে নির্যাতনের ঘটনায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার সময় লাদেন চাকমাকে আটকিয়ে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা ও তাকে চিকিৎসায় যেতে না দেওয়া চরম অমানবিক কাজ। এটা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

তারা জানান, আমাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও সাজেকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসন করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (সোমবার) আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী এমন অমানবিক কাজ কীসের আলামত? তারা কী এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক তা চায় না?

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, উজোবাজার-সহ আশপাশে গ্রামের লোকজন সেনাবাহিনীর নিপীড়নের ভয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন না। চিকিৎসায় যেতেও সেনাবাহিনী বাধা দিচ্ছে।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments