বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকা সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আজ রবিবার (১ নভেম্বর) একদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে অটোরিক্সা চলাচল করছে বলে জানা গেছে। তবে সেটলার বাঙালিরা ও বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ির দিক থেকে গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আবারো গঙ্গারাম ভাইবোনছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আজ বাঘাইহাট বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। দোকানদাররা দীঘিনালা থেকে যেসব মালামাল
নিয়ে এসেছেন সেগুলো বাঘাইহাট সেনা জোনে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হাট-বাজার
মোটামুটি চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অপরদিকে, মাচলং ও গঙ্গারাম এলাকার কলা ব্যবসায়ীরা যেসব কলা ক্রয় করেছেন
সেগুলো নিতে পারছেন না বলেও খবর পাওয়া গেছে। সেটলার বাঙালিরা দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ির
দিকে গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় তারা এ সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা আবারও গঙ্গারাম এলাকার ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গতকাল (শনিবার) তারা সেখানে
এসে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়েছিল। পরে সেখান থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়।
অপরদিকে, সেনাবাহিনীর একটি দল সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান
থেকে এক কিলোমিটারের কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে সন্তু
গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সন্তু
গ্রুপের সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর কোন যোগসাজশ রয়েছে কি-না তা নিয়ে এলাকাবাসী
সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া ও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
বন্ধের দাবিসহ কয়েকটি দাবিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের
নেতৃত্বে সাজেকবাসী আন্দোলন করছেন। গত ২২ অক্টোবর তাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধে সেনাবাহিনীর
হামলার পর ২৬ অক্টোবর সরকারের একটি প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠক করলেও তা ফলপ্রসু
হয়নি। ফলে সেখানে এখনো অবরোধ-আন্দোলন চলমান রয়েছে।
কিন্তু প্রশাসন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না
করে উল্টো সাজেকবাসীর আন্দোলন বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে মাচলং এলাকা থেকে গঙ্গারাম
এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
