""

সাজেকে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’: হতাহত ৪, গভীর রাতে সেনাবাহিনীর সাথে সাক্ষাৎ


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের কলাবন্যে নামক জায়গায় ৩১ অক্টোবর (শনিবার) আনুমানিক বেলা পৌনে ১টার দিকে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠী তথাকথিত জুম্ম লিবারেশন আর্মির (জেএলএ) সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত চারজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া কাজলংয়ের থালকুম্ভ থেকে গঙ্গারামমুখী রাস্তার ভাইবোনছড়া থুম এলাকায়ও প্রতিপক্ষের উপস্থিতি সন্দেহে ভয়ে তারা ব্লাংক ফায়ার বা শূন্যে গুলি ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে। 

অপরদিকে, গত রাতে সেনাবাহিনী সদস্যদের সাথে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কলাবন্যের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সন্তু গ্রুপের দু’জন সশস্ত্র সদস্য নিহত এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহত দুইজনকে ভাইবোনছড়া থুম থেকে থালকুম্ভের দিকে কাঁধে বহন করে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। আহত দুই সশস্ত্র সদস্যকে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে ৪-৫ জন গ্রামবাসীর সামনে পড়লে তাঁদের কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই নির্দয়ভাবে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে। এসময় তাদেরকে হতাহতের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই বাঘাইহাট জোন থেকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কলাবন্যে এলাকার ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অর্ডার করা রাতের খাবার (ভাত-তরকারি) গ্রামবাসীরা পৌঁছে দিতে গেলে তারা সেনা সদস্যদের সামনে পড়ে যান এবং সেনাসদস্যরা খাবারসহ বহনকারীদের আটকিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের কাছে গণ অধিকার রক্ষা কমিটির বাবুধন চাকমা এবং কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নতুন জয় চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে কললিস্ট পরীক্ষা করা হয় এবং চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা যখন জানতে পারেন যে খাবারগুলো সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য নেওয়া হচ্ছে, তখন আর বিলম্ব না করে ভাত-তরকারিসহ খাবার বহনকারীদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, গত রাতে পাভেল চাকমার নেতৃত্বে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরাও ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে। সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়। 

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর পরই সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, সেনাবাহিনীর সদস্যরা সরে গিয়ে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সেখানে অবস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments