Thursday, July 09, 2020

পানছড়ির মরাটিলায় সেনাবাহিনী কর্তৃক বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ব্রাশফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি

পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটিনিউজ
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মরাটিলা এলাকায় সেনাবাহিনী কর্তৃক অন্তত ১৭ গ্রামবাসীর বাড়িতে তল্লাশি ও ব্রাশফায়ার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২০) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানছড়ি বাজারের দিক থেকে গভীর রাত আনুমানিক আড়াইটার সময় ৭টি পিকআপ যোগে সেনাবাহিনীর একটি দল মরাটিলা এলাকায় হানা দেয়। এ সময় সেনাদের সাথে মুখোশ পরিহিত ৪/৫ জন তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীও ছিল।

সেখানে যাওয়ার পর সেনারা যুদ্ধের ভঙ্গিমায় পুরো এলাকায় পয়েন্টে পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

এরপর ভোর ৫টার দিকে পদ্মিনী পাড়ার মধ্যস্থল সুরেন কান্তি ত্রিপুরার বাড়ির পাশ থেকে ও ছিংসা পাড়ার মানিক ত্রিপুরার বাড়ির উঠান থেকে উপর্যুপুরি ফাঁকা ব্রাশফায়ার করতে থাকে। দু’টি স্থান থেকে তারা অন্তত ১৫-২০টি ব্রাশ ফায়ার করে। সেনাদের এমন ব্রাশফায়ারের শব্দ শুনে এলাকার জনমনে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।

পরে সেনারা পদ্মিনী পাড়া ও ছিংসা পাড়ায় অন্তত ১৭ গ্রামবাসীর বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

পদ্মিনী পাড়ায় যাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় তারা হলেন- ১. সদায় রঞ্জন ত্রিপুরা(৩৬) পিতা- বলেন্দ্র ত্রিপুরা; ২.  বরুন ত্রিপুরা(২৫) পিতা- বিনন্দ মোহন ত্রিপুরা, ৩. শান্ত ত্রিপুরা(৩৪) পিতা- পূর্ণধন ত্রিপুরা। সেনারা অস্ত্র খোঁজার নামে তন্ন তন্ন করে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

ছিংসা পাড়ায় যাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় তারা হলেন- মৃত পূর্ণ কুমার ত্রিপরার ছেলে যথাক্রমে- ১. শ্যাম রঞ্জন ত্রিপুরা(৪৮) ২. তপিন্দ্র ত্রিপুরা(৫৫), ৩. অলিন্দ্র ত্রিপুরা (৬৫) ও ৪. রবীন্দ্র লাল ত্রিপুরা(৬০); ৫. অরুন বিকাশ ত্রিপুরা (২৮) পিতা- বিনন্দ মোহন ত্রিপুরা, ৬. বিছি কুমার ত্রিপুরা (২৮) পিতা- মেনন্দ্র ত্রিপিরা, ৭. জয়ছা ত্রিপুরা (৩২) পিতা- মৃত, অজ্ঞাত, ৮. কুনাইতি ত্রিপুরা(৩৫), স্বামী- অজ্ঞাত, ৯. সুশীল ত্রিপুরা (৩২), পিতা- মৃত, অজ্ঞাত, ১০. স্বপন ছা ত্রিপুরা(২৬) পিতা- অজ্ঞাত, ১১. বিপিন জ্যোতি (৩৮) পিং- মৃত, অজ্ঞাত, ১২. রতন ত্রিপুরা (৩১) পিং- বুধবা জয় ত্রিপুরা, ১৩. চাথংছা ত্রিপুরা( ৫৬) পিতা- মৃত, অজ্ঞাত ও ১৪. মানিক ত্রিপুরা(৩০), পিতা-মৃত অজ্ঞাত।

হয়রানিমূলক তল্লাশির পর অবৈধ কোন কিছু না পেয়ে সকাল ৭টার দিকে সেনারা সেখান থেকে চলে যায়।
সেনাবাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
---

No comments: