![]() |
গুইমারা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
নববর্ষ ২০২৬-এ পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে উগ্রসাম্প্রদায়িক হামলা, নব্য
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দমন-পীড়ন, ধর্ষণ ও মাদকমুক্ত সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় গুইমারায়
প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতন্ত্রিক
যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল ৫টার সময় গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজারে
তিন বীর শহীদ সড়কে এই প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেন।
ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি,
এবার হটাবো ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’ এই ব্যানার শ্লোগানে আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্বলন
অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মাটিরাঙ্গা উপজেলা সভাপতি রণি ত্রিপুরার সভাপতিত্বে
ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য অংহ্লাচিং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সমর চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয়
সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা।
ছাত্রনেতা সমর চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, আজকে এখানে যে আমরা প্রদীপ প্রজ্বলন
করতে দাঁড়িয়েছি গত ২৮ সেপ্টেম্বরের সেনা সেটলার হামলা, অগ্নিসংযোগের পোড়ামাটির গন্ধ
এখনো শুকায়নি। আমাদের অতীতের দিনগুলো কখনো সুখকর ছিল না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির যে প্রত্যাশা ছিল তা হয়নি। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তো দূরের কথা, ১৯-২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে হামলা চালিয়ে আমাদের চার ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। সে ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার বিচারের বাণী শোনালেও কোন বিচার করেনি। ফলে সে হামলার এক বছর অতিক্রম হতে না হতেই এ বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এই রামেসু বাজারে আবারো হামলা ও নির্বিচার গুলি করে তিন জনকে হত্যঅ করা হয়েছে। পাহাড়ের জনগণ এসব ঘটনার কথা কখনো ভুলে যাবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে সেনা অপারেশনের নামে
দমনপীড়ন চলছে। সাধারণ মানুষ নিপীড়ন, হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যতদিন এই নিপীড়ন-নির্যাতন
থাকবে ততদিন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমতলে কোন ঘটনা ঘটলে বিচার হয়, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে আমার ভাইকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয়, যখন আমার বোন ধর্ষণের শিকার হয় তখন কোন বিচার হয় না।
সমর চাকমা নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে।
কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন, সেনা নিপীড়ন জারি রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ে
কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নাগরিকদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ হতে পারে
না। হাসিনার আমলের অন্তর্বর্তী সরকারও যদি পাতানো নির্বাচন আয়োজন করে তাহলে পার্বত্য
চট্টগ্রামের জনগণ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো তা বয়কট করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি
দেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমেলে যেসব সেনা কর্মকর্তা পাহাড়ে নিয়োজিত
ছিলেন, তারা অনেকে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। পাহাড়ে খুন, গুম, নিপীড়নে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের
কোন বিচার হয় না।
রামেসু বাজারে হামলার বিচার দাবি জানিয়ে সমর চাকমা বলেন, রামেসু বাজারে
হামলা, অগ্নিসংযোগে জড়িত সেনা-সেটলারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তি
প্রদান করতে হবে।
তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তিনি তার
দেশ পরিচালনার স্বপ্নের কথা বলেছেন। কিন্তু পাহাড়কে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কখনো এগিয়ে যেতে
পারবে না। তিনি তার পিতা জিয়াউর রহমান যে চার লক্ষাধিক বাঙালিকে পুনর্বাসন করে পাহাড়ের
সমস্যাকে জটিল করেছেন সে ভুল শোধরানোর জন্য সেটলারদের সমতলে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানান।
তিনি পুরাতন বছরের দুঃখ, গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে নতুন উদ্যামে সকল অন্যায়
অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
রিতা চাকমা বলেন, আমরা সকলে জানি ২০২৫ কী দুর্বিষহ অবস্থায় আমরা কাটিয়েছি।
এই রামেসু বাজারে আমরা তিন ভাইকে হারিয়েছি। নিজের জাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও মা বোনের
ইজ্জ্বত রক্ষার্থে আন্দোলন করতে গিয়ে তাদেরকে আমরা হারিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দাবি
করা হয়। ফলে আমরা ভেবেছিলাম একটু হলেও আগের চেয়ে নিরাপদে থাকতে পারবো। কিন্তু পার্বত্য
চট্টগ্রামের জনগণ একদিনের জন্যও সেই স্বাধীনতার কোন স্বাদ পায়নি। তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার
দোসররা এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি নতুন বছরে সবার সুন্দর জীবন কামনা করে নতুন উদ্যামে এগিয়ে যাওয়ার এবং
মাদকমুক্ত সামজ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য ছাত্র-যুব সমাজসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে “রুখে দাঁড়াও ধান্দাবাজ-প্রতিক্রিয়াশীল, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে”, “সংসদ নির্বাচনে আসন বিক্রেতার মুখোশ খুলে দাও”, “শাসকগোষ্ঠির পদলেহী ধান্দাবাজদের বয়কট করুন”,“রামেসু বাজারে হামলা ও লুটপাটকারীদের বিচার কর”,সহ বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।
শেষে তিন শহীদের স্মরণে ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগানের মধ্য দিয়ে
প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।








