""

খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর সেটলার হামলার প্রতিবাদে সাজেকে বিক্ষোভ


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে ভূমি বিরোধের জেরে পাহাড়িদের ওপর সেটলার হামলা ও রামগড়ে ভূমি বেদখলের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১:০০টার সময় সাজেকের উজোবাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি, সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

“অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও ভূমি বেদখল বন্ধ কর” শ্লোগানে প্রথমে গঙ্গারাম দ্বপদা হতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পর্যটন সড়ক হয়ে উজোবাজারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি ব্রজ মনি চাকমার  সভাপতিত্বে ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা সহসাধারণ সম্পাদক সমর জ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙাামটি জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক বিশাখা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকাশ চাকমা, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে বিশাখা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার বাঙলি কর্তৃক প্রতিনিয়ত পাহাড়িদের ভূমি বেদখল ও হামলার ঘটনা ঘটে থাকে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে ভূমি বেদখলের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেটলাররা হামলা চালিয়ে ৩ জন পাহাড়িকে গুরুতর আহত করেছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

ছাত্রনেতা প্রকাশ চাকমা বলেন, সেটেলার বাঙালিরা যে পাহাড়িদের ভূমি বেদখল করছে তা রাষ্ট্রের লেলিয়ে দেয়া সেনাবাহিনীর একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলাকারী সেটলারদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সাজেকে পর্যটনের নাম দিয়ে সেনাবাহিনী ভূমি বেদখল করা হয়েছে সেই পর্যটনে পর্যটকরা সাজেকবাসীর দুঃখ কষ্টকে তোয়াক্কা না করে আনন্দ উল্লাস করে সাজেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে। আমরা লাদুমুনি, লক্ষী বিজয় এবং বুদ্ধপুদিদের উত্তরসূরী। পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সাজেকবাসী সবসময় প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, সেনাশাসন দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। আমরা বার বার সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি কথা বলে আসছি। কিন্তু আমাদেরকে বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী বলে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহারের দাবি জানালেও সরকার তার কোন তোয়াক্কা করেনি।

তিনি অতি দ্রুত কমলছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলাকারী সেটলারদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বাবুধন চাকমা বলেন, দিনে দুপুরে সেটলার কর্তৃক ৩ পাহাড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। হামলাকারীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। আজকে আমরা যে প্রতিবাদ সমাবেশ করছি হয়তো এ নিয়েও আমাদেরকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হবে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আমরা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়। আমরা এ দেশের সকল মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। আমরা আশা করি প্রশাসন কমলছড়ি ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু বিচার করবে।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments