![]() |
| পিসিপি’র প্রকাশিত লিফলেট। |
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশ করা এক
লিফলেটে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।
ইতোমধ্যে লিফলেটটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি বিলি করা হয়েছে বলে জানা
গেছে।
লিফলেটে বলা হয়, ... “ভাষা শহীদদের রক্তে রঞ্জিত ২১শে ফেব্রুয়ারির গৌরবান্বিত ইতিহাস সমুন্নত রাখতে হলে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিকে মহিমান্বিত করতে হলে বাংলাদেশের বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা দরকার। জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনমত গঠনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তি, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জাতিসত্তার স্বীকৃতি ও ভাষা রক্ষার আন্দোলনে শরীক হতে হবে। তাই আসুন, নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে সোচ্চার হই। পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাত্ম হয়ে সংগ্রাম গড়ে তুলি।”
* লিফলেটটির পুরো লেখাটি নীচে দেওয়া হলো:
ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস। ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ নিজ
মাতৃভাষা ‘বাংলা’-কে রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সালাম-বরকত-রফিক-শফিক-জব্বারসহ
আরো অনেকে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে
‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। কিন্তু ইতিহাসের এক নির্মম
পরিহাস, যে দেশে তৎকালীন ছাত্রসমাজ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল, সেদেশের স্বাধীনতার ৫৪
বছরেও অন্যান্য জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাদের
ভাষাগুলোকে অবহেলায়, অনাদরে ও অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা
থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের ভাষা, ইতিহাস,
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এসব রক্ষা করতে আজ আন্দোলন-সংগ্রাম জরুরী হয়ে পড়েছে।
২০১৪ ও ২০১৫ সালে বাংলাদেশের নৃভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় সমতলের
ও পাহাড়ের ৪১টি ভাষার মধ্যে ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তন্মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের রেংমিটচ্য ভাষা, সমতলের পাত্র জনগোষ্ঠীর লালেং ভাষা
গুরুতর সংকটাপন্ন ও বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি স্টেটওয়াচ
ডেস্ক প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, নিজেদের ভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় হারিয়ে
যেতে বসেছে শেরপুরের গারো পাহাড়ের গারো, হাজং, কোচ, বানাই ও ডালুসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর মানুষের
ভাষা। এভাবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তার ভাষাগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে
স্বীকৃতি, সংরক্ষণ ও গুরুত্ব দেয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে বৈচিত্র্যপূর্ণ এসব জাতির ভাষাগুলো
হারিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
প্রতিবাদী বন্ধুগণ,
একটি জাতির অস্তিত্ব ও বিকাশের জন্য ভাষা একটি গুরুত্ব শর্ত।
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ২০০১ সাল থেকে প্রাথমিক স্তর
পর্যন্ত দেশের সকল জাতিসত্তাসমূহের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা চালুসহ শিক্ষা সংক্রান্ত
৫ দফা দাবীতে আন্দোলন শুরু করে। আজ পর্যন্ত বহু মিছিল, সমাবেশ, স্মারকলিপি পেশ, ছাত্র
ধর্মঘট, ক্লাস বয়কট, সংখ্যালঘু জাতির মাতৃভাষায় প্রতীকী ক্লাস অনুষ্ঠান, শহীদ দিবস
ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি
কর্মসূচি পালন করেছে।
২০০২ সালে ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক
মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, ১৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ওসমান
ফারুকের কাছে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে তৎকালীন ক্ষমাতাসীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়ার বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে
পিসিপির দাবিনামাকে যৌক্তিক আখ্যায়িত করে এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করে ২৭ ফেব্রুয়ারি
২০০৩ তারিখে পিসিপির কেন্দ্রীয় সম্পাদকের বরাবরে চিঠি প্রেরণ করা হয়। কিন্তু আশ^াস
সত্বেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পিসিপি আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে খাগড়াছড়িতে বিশাল ছাত্র সমাবেশ
ও ২০১১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্র ধর্মঘট পালনের দিন বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পিসিপি’র দাবীর যৌক্তিকতা মেনে নেন এবং তা বাস্তবায়নের
প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সরকার প্রাথমিকভাবে পাহাড় ও সমতলের সংখ্যালঘু
জাতির ৬টি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের জানুয়ারি
থেকে প্রাথমিক স্তরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদ্রি ও গারো ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম
চালু করা হয়। কিন্তু শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ, অপর্যাপ্ত শিক্ষক, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ,
প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও পরিবেশের উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে জাতিসত্তার মাতৃভাষায়
পাঠদান এখনো অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত
পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
এদেশের ৫০টির অধিক জাতির ভাষা বাংলা ভাষার আধিপত্যে নিষ্পেষিত।
শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভিন্ন অন্যান্য জাতির ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ
ও বিকশিত করতে চায় না। তারা চায় আমরা নিজেদের হেয় জ্ঞান করি, নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি,
ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলে যাই এবং আমরা মেরুদণ্ডহীন, শেকড়হীন হয়ে যাই। শাসকগোষ্ঠী কেবল
মুখে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিসমূহের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও
বিকাশের কথা বলে থাকে, কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। পিসিপি
মনে করে, ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার
নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করা অতীব জরুরী।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সকল জাতির সমমর্যাদা, আত্মসম্মানবোধ
নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের স্বীকৃতি মিলেনি। বরং জাতিসত্তার জনগণ অবহেলা, শোষণ ও বঞ্চনার
শিকার এবং তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাদেরকে
অবজ্ঞা করে বলা হচ্ছে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘উপজাতি’। (দেখুন : ৭ম শ্রেণি বই; সপ্তবর্ণা-
পৃষ্ঠা ৫২, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- অধ্যায় বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য,
৮ম শ্রেণির বই অধ্যায়- বাংলাদেশে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, ৯ম শ্রেণি- পৌরনীতি ও নাগরিকতা
পৃষ্ঠা নং- ৯৩)। এছাড়াও বইগুলোতে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈসাবি’র
সাথে জড়িয়ে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। যেমন- ‘ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব নববর্ষ বা বৈসু’,
‘পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবি আজ একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে’ ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে সাংস্কৃতিক
ও ঐতিহ্যগতভাবে বৈসাবির সাথে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের কোন মিল নেই।
সকল সংগ্রামী জাতির মতো আমাদেরও রয়েছে পরাক্রমশালী মোঘল ও বৃটিশদের
বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের লড়াই সংগ্রামের
ইতিহাস, সাঁন্তাল, মুন্ডা বিদ্রোহ, গারো, হাজংসহ অন্যান্য জাতির আগ্রাসী ব্রিটিশ বেনিয়াদের
বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস। এসকল বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামী ইতিহাস জেনে আমরা সেই ঐতিহ্যের
গর্বিত উত্তরসূরি হতে চাই। আমরা দাবি জানাই বাংলাদেশে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ‘ক্ষুদ্র
নৃগোষ্ঠী’, ‘উপজাতি’ শব্দসহ অবমাননাকর ও জাতি বিদ্বেষমূলক লেখা বাদ দিয়ে জাতিসত্তাসমূহের
সঠিক সংগ্রামী রাজনৈতিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংগ্রামী ছাত্র-জনতা,
বাংলাদেশের সংবিধানে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিসত্তার স্বীকৃতি
দেয়া হয়নি। রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী জাতিসত্তাগুলোকে বিকাশের সুযোগ না দিয়ে বরং তাদের
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে। যুগ যুগ ধরে অবর্ণনীয়
নিপীড়ন ও গণহত্যা চালিয়ে এবং দেশছাড়া, ঘরছাড়া করে এই রাষ্ট্র আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব
ধ্বংস করতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পাহাড়ি জনগণকে এখনো দিনযাপন
করতে হচ্ছে।
২০২৪ সালে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র প্লাটফর্মের নেতৃত্বে
শুরুতে ‘কোটা বাতিলের’ আন্দোলন করা হলেও, পরে তা সংশোধন করে ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলনের
রূপ দেয়া হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজ ও জনগণও এই
আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা
সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পাহাড়-সমতলের সংখ্যালঘু জাতিসমূহের
কাক্সিক্ষত লক্ষ্য, স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
চাকুরির ক্ষেত্রে অনগ্রসর জাতির জন্য ২০১৮ সালের পূর্বে বরাদ্ধকৃত কোটা ৫ শতাংশ থেকে
নামিয়ে ১ শতাংশ করেছে। এই ১ শতাংশ কোটা অনগ্রসর জাতিসমূহের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে আমরা
মনে করি। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ’২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময়ও এক বিবৃতি দিয়ে কোটা বাতিলের
বিরোধিতা করেছিল এবং ৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছিল।
আমরা মনে করি, যতদিন পর্যন্ত সংখ্যালঘু জাতিগুলোর শিক্ষা, অর্থনৈতিক,
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত না হবে, যতদিন জাতি ও জাতির মধ্যে,
শ্রেণী ও শ্রেণীর মধ্যে বৈষম্য বিরাজমান থাকবে, ততদিন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে
পাহাড়ি জাতিসহ দেশের অনগ্রসর জাতিসত্তাসমূহের এই কোটা সুবিধা পাওয়ার ন্যায্য অধিকার
রয়েছে। তাই সরকারকে অবশ্যই পূর্বের ন্যায় অনগ্রসর জাতিসমূহের জন্য দেশের ১ম ও ২য় শ্রেণির
সরকারি চাকুরিতে ৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখতে হবে।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
আমরা মনে করি, ভাষা শহীদদের রক্তে রঞ্জিত ২১শে ফেব্রুয়ারির
গৌরবান্বিত ইতিহাস সমুন্নত রাখতে হলে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিকে মহিমান্বিত
করতে হলে বাংলাদেশের বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি
প্রদান করা দরকার। জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি
প্রয়োজনীয় জনমত গঠনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তি, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের
ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের
জাতিসত্তার স্বীকৃতি ও ভাষা রক্ষার আন্দোলনে শরীক হতে হবে। তাই আসুন, নিজ নিজ ভাষা,
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে সোচ্চার হই। পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবির পূর্ণ
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাত্ম হয়ে সংগ্রাম গড়ে তুলি।
পিসিপির শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবিসমূহ :
১। সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকার
নিশ্চিত করতে হবে।
২। স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকে জাতিসত্তার প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য
বাদ দিতে হবে।
৩। পাহাড়ি জাতিসত্তার বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী ও সঠিক সংগ্রামী
ইতিহাস স্কুল কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪। বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার সংক্ষিপ্ত সঠিক তথ্য সম্বলিত
পরিচিতিমূলক রচনা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫। পার্বত্য কোটা বাতিল করে পাহাড়িদের জন্য বিশেষ কোটা চালু
করতে হবে।
ছাত্র সমাজের প্রতি আমাদের আহ্বান :
১। ভাষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাস রক্ষার সংগ্রামে শরীক হোন!
২। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন গড়ে তুলুন!
৩। জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে পিসিপির পতাকাতলে সমবেত হোন!
৪। শিক্ষা-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের সংগ্রাম জোরদার করতে
এগিয়ে আসুন!
৫। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুলকে
অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প বানানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন!
পূর্ণস্বায়ত্তশাসনই পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার একমাত্র সমাধান।
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর
কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
