ডেস্ক রিপোর্ট, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি
জনগোষ্ঠীর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের
আহ্বান জানিয়েছে এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (ACHR)।
গত ৩০ জানুয়ারি ACHR-এর রিসার্চ প্রধান জন ডোলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ
প্রতিনিধি দলের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মাইকেল মিলার-কে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। চিঠিতে
পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই পাহাড়ি স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, নির্বাচনী
সহিংসতার আশঙ্কা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ
কামনা করা হয়।
ACHR-এর অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী
পহেল চাকমা এবং খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও তাঁদের নির্বাচনী
টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে এই হুমকিগুলো
এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর একটি সশস্ত্র গ্রুপের পক্ষ
থেকে, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র
বোধিপ্রিয় লারমা, যিনি সন্তু লারমা নামেও পরিচিত।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পহেল চাকমা রাঙামাটি
সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন সন্ধ্যা আটটার দিকে
রাঙামাটির ককবরক ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট নামে একটি ক্যাফেতে পিসিজেএসএসের সদস্য পরিচয়
দেওয়া দুই ব্যক্তি তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেন। তা না করলে হত্যার হুমকিও
দেওয়া হয়। অভিযোগ দায়েরের পর এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
বলে ACHR জানিয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে, ২৭ জানুয়ারি তাঁর আপন ভাইকেও তার পক্ষে নির্বাচনী
কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমার ক্ষেত্রেও একাধিক হুমকির অভিযোগ
উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর অজান্তে বিদর্শী চাকমা নামে
এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি জাল প্রত্যাহারপত্র জমা দেন। জেলা প্রশাসক সেটি
গ্রহণ না করলেও, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর ধর্ম জ্যোতি
চাকমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের কাছ থেকে ধারাবাহিক হুমকি
পেতে থাকেন। পিসিজেএসএস এর গ্রুপ কমান্ডার নেত্র স্বপন চাকমা সরাসরি হুমকি দেন বলে
অভিযোগ করা হয়েছে।
ACHR আরও অভিযোগ করেছে, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার
কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৭৫ জন সশস্ত্র পিসিজেএসএস সদস্য মোতায়েন করা হয়, যার উদ্দেশ্য
ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা। নথিতে স্থানীয় সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে,
এই তৎপরতায় সেনাবাহিনীর সমন্বয় ও সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।
নথিতে পিসিজেএসএসকে একটি সরকারপৃষ্ঠপোষক আধাসামরিক গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পরও সংগঠনটির সশস্ত্র কাঠামো বহাল
থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। সন্তু লারমা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই পরিষদের আইনি ক্ষমতা ও মর্যাদা রাষ্ট্রীয়
কাঠামোর অংশ বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ACHR ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান
জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো,
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
কাছে হস্তক্ষেপ করা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পিসিজেএসএসের সশস্ত্র
সদস্যদের বাধ্য করা।
ACHR-এর মতে, চলমান হুমকির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘আদিবাসী’ জনগোষ্ঠীর
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও অবাধ নির্বাচনের অধিকার গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
