খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি
আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমার ঘোড়া মার্কার পক্ষে খাগড়াছড়ি সদরে বিশাল
শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা আড়াইটার সময় খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ
গেইট এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি চেঙ্গী স্কোয়ার, মহাজন
পাড়া, শাপলা চত্বর হয়ে মধুপুর বাজার-পানখাইয়া পাড়া সড়ক ঘুরে পূনরায় কলেজ গেইটে এসে
সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে তারা ঘোড়া মার্কার পক্ষে নানা শ্লোগান দেন ও ব্যানার-ফেস্টুন
প্রদর্শন করেন। ঘোড়া মার্কার প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের
সামনে ছিলেন।
এর আগে খাগড়াছড়ি সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ গাড়িযোগে, হেঁটৈ কলেজ মাঠে এসে জমায়েত হন। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।
সমাবেশে ধর্ম জ্যোতি চাকমা নিজের পরিচয় ও মার্কার কথা জানিয়ে সমবেত জনতার
উদ্দেশ্যে বলেন, আমি নাগরিক সমাজের পক্ষ হয়ে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনে প্রার্থী হয়েছি।
আপনারাই আমার শক্তি, জনগণই আমার শক্তি। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ১২ তারিখে ব্যালট বিপ্লব
ঘটিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন।
তিনি বলেন, আমি খাগড়াছড়ির একজন ছেলে, আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। আমি
আপনাদের বিবেকের প্রতিনিধি হতে চাই।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক ও বিভাজনের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান
জানান।
ধর্ম জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তায় থাকতে পারা আমাদের
অধিকার। এটা আমাদের বিলাসিতা নয়। এখানে আনাচে-কানাচে যে রকম নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে
তা বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি সংসদে গিয়ে কথা বলবো।
তিনি বলেন, আমি সংবিধানের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী আইন [যে আইনে বাঙালি
জাতীয়তা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে] সংশোধনের জন্য সংসদে ভূমিকা রাখবো। আমরা সবাই বাংলাদেশের
নাগরিক এবং বাংলাদেশী। কিন্তু আমরা বাঙালি নই। আমরা চাকমা, মারমা ত্রিপুরাসহ সংখ্যালঘু
জাতিসত্তাগুলো এই পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছি।
তিনি ইশেতেহারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, রাঙামাটি ও বান্দরবানে মেডিকেল
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু খাগড়াছড়িতে সে ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা নাই। তাই
প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য খাগড়াছড়িতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতিসত্তাগুলোর নিজ নিজ মাতৃাভাষায় শিক্ষালাভের
অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
ধর্ম জ্যোতি চাকমা আরও বলেন, পাহাড়ের গিরি, ঝর্ণা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবুজ
পাহাড় গড়ে তুলতে আমি কাজ করবো। এলাকায় এলাকায় গিয়ে জনগণের সাথে কথা বলে এই কাজটি করবো।
আমি পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো।
তিনি পাহাড়ে নারীর ওপর সহিংসতার কথা তুলে ধরে বলেন, কয়েক মাস আগে এখানে
একজন মারমা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, গুইমারার রামেসু বাজারে ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছে,
কিন্তু আমরা এখনো বিচার পাইনি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতে না
থাকে সে ব্যাপারে আমি ভূমিকা রাখবো।
তিনি সংসদে যেতে পারলে শাসকগোষ্ঠির জাতিগত বিভাজন নীতির বিরুদ্ধে ভূমিকা
রাখবেন বলে আশ্বাস দেন এবং এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার
আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে বিভিন্ন স্থানে পর্যটন করা হচ্ছে। কিন্তু পর্যটন
করতে হলে এখানকার জনগণের সাথে আগে পরামর্শ করতে হবে। কোন জনগোষ্ঠিকে উচ্ছেদ করে, কাউকে
ভিটেমাটি ছাড়া করে পর্যটন করা যাবে না। আমরা অবশ্যই উন্নয়ন চাই, কিন্তু উন্নয়নের নামে
যাতে পাহাড়িরা উচ্ছেদের শিকার না হয়।
ধর্ম জ্যোতি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমি জীবনে অন্যায়ের কাছে কোন মাথানত করিনি
এবং করবো না। আমি আপনাদের অধিকারের কথা বলবো, নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার স্বজন-সাথীহারা
মানুষের কথা বলবো।
এছাড়া সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কৃপায়ন ত্রিপুরা ও রিপুল চাকমা বক্তব্য
রাখেন। তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে ধর্ম জ্যোতি চাকমাকে বিজয়ী
করার জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।





