ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলার বিচারের দাবিসহ সারাদেশে সার্বিক পরিস্থিতি
নিয়ে আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করবে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশী
হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মিছিল বের করে ভিসি চত্বর, কলা ভবন, ডাকসু,
শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি
অমল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের
সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, সমাজতান্ত্রিক
ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি
নাঈম উদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার আহ্বায়ক নুজিয়া হাসিন
রাশা।
অমল ত্রিপুরা বলেন, অতীতের সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় নবগঠিত সরকারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকর্তারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। সারাদেশে কথিত “মাদক বিরোধী অভিযানের” নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই
পাহাড়-সমতলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। গতকাল বান্দরবানে সেনাবাহিনী
কর্তৃক একজন রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে রামগড়ে সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের
ওপর হামলা এবং ভূমি বেদখল চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক চাঁদপুর, ধানমন্ডি রবীন্দ্র
সরোবর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়
গতকাল (সোমবার) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রনেতা নাঈমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষকে সোচ্চার
থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে অমল ত্রিপুরা, ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলার বিচারের
দাবিসহ সারাদেশে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন।
সমাবেশে ছাত্রনেতা ভুক্তভোগী নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশ বেপরোয়া ও গণবিরোধী আচরণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরও যদি পুলিশের ভূমিকা এমন আগ্রাসী হয়, তাহলে সাধারণ রিকশা চালক, দিনমজুর, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি রাষ্ট্র কতটা বৈষম্যমূলক আচরণ করে, তা সহজেই অনুমেয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক
নুজিয়া হাসিন রাশা সংহতি জানিয়ে বলেন, শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রতি
দমন-পীড়নের চিত্রে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন,
‘পুলিশের পোশাক বদলালেও তাদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। রাষ্ট্রব্যবস্থার যে দমনমূলক চরিত্র,
তা এখনও বহাল রয়েছে।’
সমাবেশে থেকে বক্তারা, অবিলম্বে নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু
তদন্ত, রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদকে অপসারণসহ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


