রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেটলার কর্তৃক সুইবাঅং মারমাকে মারধর-অপহরণ এবং ধর্মকীর্তি
অরণ্য বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিমেল চাকমাকে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক
যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) রামগড় উপজেলা শাখা।
আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা
হয়। প্রথমে মিছিল ও পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র রামগড় উপজেলা সাধারণ সম্পাদক
ধন মোহন ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুরেশ ত্রিপুরা, ডিওয়াইএফ’র রামগড় উপজেলা সভাপতি
ধনু ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক শান্ত চাকমা।
ধন মোহন ত্রিপুরা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ
বিজয়ের পর পরই গতকাল (১৪ ফেব্রুয়ারি) রামগড়ে সুবাইঅং মারমাাকে অপহরণ-মারধর ও হিমেল চাকমার ওপর হামলা কোনো
বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পাহাড়িদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিপীড়ন ও বিদ্বেষের অংশ। অতীতে
বিএনপি’র শাসনামলে পাহাড়ে এমন হামলা, দমন-পীড়নসহ বহু ঘটনা ঘটেছিল। জনগণ সেই ইতিহাস
ভুলে যায়নি। ক্ষমতার পালাবদলের পর আবার যদি পাহাড়ে অতীতের পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে তা পাহাড়ি
জনগণ সহ্য করবে না।
তিনি অবিলম্বে হামলা-মারধর ও অপহরণের সাথে জড়িত সেটলারদের আইনের আওতায় এনে
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সুরেশ ত্রিপুরা বলেন, গতকাল হিমেল চাকমা ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি
ফেরার পথে সেটলারদের হামলা-মারধরের শিকার হয়েছেন। একজন অসুস্থ মানুষকে রাস্তায় নির্মমভাবে
মারধর করে ফেলে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এছাড়া সেটলার বাঙালিরা সুইবাঅং মারমাকে
অপহরণ করে অমানুষিকভাবে মারধর করে বিজিবির হাতে সোপর্দ করেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রশাসনকে অতি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে
হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি জটিল হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।
শান্ত চাকমা বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর ক্ষমতায় বসতে না বসতে পাহাড়িদের ওপর
হামলা-অপহরণ, মারধরের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। গতকাল রামগড়ে সুইবাঅং মারমা ও হিমেল চাকমার
ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের
অন্যায়-অবিচার ও হামলা বন্ধ না হলে পাহাড়ি ছাত্র-যুব সমাজ তা প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াবে।
ধনু ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু গতকাল
পর পর দুই পাহাড়ির ওপর সেটলার বাঙালিরা যেভাবে হামলা, অপহরণ ও মারধর করেছে এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে অপরাধীররা
আরো এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত করতে পারে। তাই প্রশাসনকে অবিলম্বে হামলা-মারধর-অপহরণে জড়িত সেটলারদের
গ্রেফতার ও বিচারের পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি এলাকার জনগণে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

