![]() |
| মুক্তি পাওয়ার পর নতুন জয় চাকমাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন মুরুব্বীরা। |
সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের মাচলঙের শান্তি পাড়া থেকে সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক
পাড়ার কার্বারি (গ্রামপ্রধান) নতুন জয় চাকমা ও তার ছেলে আশা পূর্ণ চাকমাকে মুক্তি দেওয়া
হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৪টায় তাদেরকে বাঘাইহাট জোন থেকে
মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত মধ্যরাত ১:০০টা সময় মাচলং সাবজোনের সেনা সদস্যরা তাদেরকে
নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্র গুজে দিয়ে আটক করে এবং পরে বাঘাইহাট জোনে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নতুন জয় চাকমা সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের সদস্য এবং সাজেক ভূমি
রক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
তাদেরকে আটকের পর আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে এলাকার জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বী,
গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। সকাল ৯টার সময় সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান
অতুলাল চাকমাসহ জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে ৩০-৩৬ জন মুরুব্বী বাঘাইহাট
জোনে গিয়ে আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। সে সময় তাদেরকে বলা বলা হয়, “তাদের বিরুদ্ধে
পাওয়া অভিযোগ দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যদি প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে বিকালে ছেড়ে
দেওয়া হবে।”
অপরদিকে, এলাকার জনসাধারণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ-অসন্তোষ নিয়ে উজোবাজারে অবস্থান নেন।
পরে বিকালে আবার জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীরা বাঘাইহাট জোনে গিয়ে আটককৃতদের
মুক্তির দাবি জানালে পরে বিকাল সাড়ে ৪টার সময় তাদেরকে জোন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তারা ছাড়া পাওয়ার পর জোনের সামনে অপেক্ষমান জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীরা তাদেরকে
ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
এরপর তাদেরকে নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বীরা উজোবাজারে যান এবং সেখানে অবস্থান
করা জনগণের সামনে কার্বারি নতুন জয় চাকমা বক্তব্য রাখেন। তিনি এলাকার জনগণের প্রতি
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
![]() |
| উজোবাজারে উপস্থিত জনগণের সামনে বক্তব্য রাখছেন নতুন জয় চাকমা। |
আটকের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) মাচলং এলাকায় আমাদের
একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল। চার ঘন্টা পর্যন্ত আমরা বিহারে ছিলাম। সে সময় আমাদের বাড়ি
খালি ছিল। গত রাত ১২টা-১টার সময় আর্মিরা বাড়িতে গিয়ে আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে
এবং বাড়ি চেক করতে পারবে কিনা তারা জিজ্ঞেস করে। তখন আমি তাদেরকে বলি, কেন? আপনাদের
সাথে তো আমার সকাল-বিকাল দেখা হয়। তখন আর্মিরা বলে যে, “আপনার বাড়িতে একটি অবৈধ অস্ত্র
আছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।” তখন আমি বলি, “আমার বাড়িতে তো অস্ত্র থাকার কথা নয়। পরে
তারা বাড়িটি চেক করতে চাইলে আমি তাদেরকে চেক করতে বলি।
“এরপর তারা বাড়ির ভিতর খাট, তোশকসব সব জিনিসপত্র চেক করে কোন কিছু পায়নি।
পরে তারা বাড়ির বাইরে পানি রাখার জায়গায় গিয়ে একটি ‘অস্ত্র’ উদ্ধার দেখায়।”
তার বিরুদ্ধে শত্রুতাবশত এ ঘটনাটি ঘটনো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার জন্য সাজেক ও বঙ্গলতলীবাসী জনগণের প্রতি ধন্যবাদ
ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “আমাদের টিকে থাকার জন্য এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আজকে
শুধু আমাকে নয়, ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেকে এভাবে হয়রানির শিকার হবেন।”
![]() |
| উজোবাজারে উপস্থিত জনগণের সামনে বক্তব্য রাখছেন নতুন জয় চাকমা। |
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমার কাছ থেকে জানতে চায় যে, ইউপিডিএফ কি চায়? তখন
আমি বলি, ‘ইউপিডিএফ এখানে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে, স্কুল নির্মাণ করে দিচ্ছে’। তারা আরো
কি কাজ করে জানতে চাইলে আমি বলি, ‘ইউপিডিএফ বন রক্ষা করে, পরিবেশ রক্ষা করে’।
পরে তারা (আর্মিরা) বলে যে, “ইউপিডিএফ যদি এতই ভালো কাজ করে তাহলে কেন সেনাবাহিনীর
বিরুদ্ধে কথা বলে?” তখন আমি তাদেরকে বলি যে, “এখানে যে নারী ধর্ষণ হয়, ভূমি বেদখল হয়
সেসবের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার কারণে তারা কথাবার্তা বলতে বাধ্য হয়। কারণ অনেক জায়গায়
জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া হয়, নারী ধর্ষণ করা হয়- এসব ঘটনার সঠিক বিচার হয় না।”
“এসব কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে তারা বনবিহারী মেম্বারকে ফোন করেন। তার
কাছ থেকে আমার সম্পর্কে জানতে চান। আমি যে কার্বারি তারা তা বিশ্বাস করেনি। আমি ইউপিডিএফের
সদস্য কিনা তারা মেম্বারের কাছ থেকে জানতে চান। তিনি (মেম্বার) আমি যে ইউপিডিএফের সদস্য
নয়, একজন কার্বারি সেটা তাদেরকে জানান।
“পরে আমাকে পরিবর্তন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে দায়িত্বরত সেনা কমান্ডার আমাকে
ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন এবং জোন থেকে ছেড়ে দেন। এরপর জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীরা আমাকে উজোবাজারে
নিয়ে আসেন।”
এতে আরো বক্তব্য রাখেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


