""

‘পূর্ণস্বায়ত্তশাসন’ দাবি উত্থাপন দিবসে কাউখালীর দুই স্থানে আলোচনা সভা


কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘পূর্ণস্বায়ত্তশাসন’ দাবি উত্থাপন দিবসে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার দুই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) দুপুরে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ফটিকছড়ি ইউনিয়নে ডাবুয়া এলাকায় দুপুর ১.৩০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন জায়গা থেকে তিন শতাধিক ছাত্র, যুব-নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

সভায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কাউখালি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নিবাইমং মার্মার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক অমিত চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র কাউখালি উপজেলা শাখার সভাপতি জিপল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কাউখালি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক একামনি চাকমা এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এলাকার কার্বারি হরিপ্রূ মার্মা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি অংসাজাই মার্মা। 

সভা শুরুতে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। 

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে ১০ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯৭ সালের এ দিনে তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পাহাড়ি গণ পরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ‘পূর্ণস্বায়ত্তশাসন’ দাবি উত্থাপন করা হয়।

তারা প্রচারিত লিফলেটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে সে সময় সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির বৈঠকের ভেন্যু খাগড়াছড়ি  থেকে ঢাকাতে  স্থানান্তর করে তৃতীয় বৈঠক নির্ধারিত হয় ১২ মার্চ ১৯৯৭। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মূল দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারেরর সাথে চুক্তিতে উপনীত হতে জনসংহতি সমিতি যখন প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সব কিছু পাকাপাকি করে ফেলতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।  জাতীয় জীবনের এমনই এক সন্ধিক্ষণে রাজপথে নেতৃত্বদানকারী তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের এই দাবি উত্থাপন করে। সেসময় তিন গনতান্ত্রিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপলব্ধি করতে পারেন যে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত অধিকার আদায় হবে না।  কাজেই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবিই যুগের দাবি হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিধাগ্রস্ত জনতা ও আন্দোলনকামী কর্মীবাহিনী ভবিষ্যৎ পথ চলার সঠিক দিশা খুঁজে পায়।

বক্তারা আরো বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি এক সময় ছিল স্বাধীন রাজ্য। তৎসময়ে এ অঞ্চলে বসবাসকারী পাহাড়িরা নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে জীবন-যাপন করতেন। কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা যখন পার্বত্য অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ দখলে নেয়  তখন থেকেই তারা এ অঞ্চলের স্বাধীন মর্যাদাকে আস্তে আস্তে কেড়ে নিতে শুরু করে।   তারা নিজেদের প্রশাসন ব্যবস্থা এ অঞ্চলের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। যদিও তারা এ অঞ্চলের মানুষদের অধিকার সম্পর্কে কিছুটা সচেতন ছিলেন। যার কারণে ব্রিটিশ শাসকরা ১৯০০ সালের রেগুলেশন আইন প্রণয়ন করে দিয়ে কিছু অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছিলেন। 

“কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান নামে দুই রাষ্ট্র গঠন করে দেয়ার সময় তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। তাদের এই পদক্ষেপের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের পরবর্তীকালের সকল দুর্দশার মূল কারণ হয়েছিল।

“১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণ দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি পায়নি। বাংলাদেশ সরকার পাহাড়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েন, উনআশি-আশি সালে সমতল থেকে বাঙালি এনে পুনর্বাসন করে এ অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন শুরু করা হয়। ডজনের অধিক গণহত্যা, অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, সাম্প্রদায়িক হামলা ও অন্যায় দমন-পীড়ন চালিয়ে পাহাড়িদের জাতীয় অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৮০ সালের ২৫ শে মার্চ কাউখালীতে নির্মমভাবে রাষ্ট্রীয় মদদে সেনা-সেটলারদের দিয়ে গণহত্যা চালানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর শাসকগোষ্ঠির এই নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন এখনো চলমান রয়েছে। তাই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন ছাড়া পাহাড়ি জনগণের এই নিপীড়ন মুক্তির কোন উপায় নেই।”

বক্তারা বলেন, অধিকার ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়। পূর্ণস্বায়ত্তশাসনও আমরা এমনিতে পাবো না। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ অধিকার অর্জন করতে হবে, আদায় করে নিতে হবে। তাই ছাত্র-যুব-নারী সমাজকে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল হতে হবে।

সভা থেকে বক্তারা পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় পূর্ণস্বায়ত্তশাসন উত্থাপন দিবস উপলক্ষে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত লিফলেট বিলি করা হয়।

অন্যদিকে, ঘাগড়া ইউনিয়নে তিন সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিবসটি তাৎপর্য নিয়ে এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

এতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি ক্যথুই মারমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন কাউখালি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি নন্দা চাকমা, পিসিপি’র কাউখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনেল চাকমা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক সুজেশ চাকমা।





সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।








0/Post a Comment/Comments