গুইমারা (খাগড়াছড়ি), সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার কুকিছড়া এলাকার এক বিধবা মারমা নারীকে (২৭) ধর্ষণের
অভিযোগে এলাকাবাসী অভিযুক্ত ম্রাসা মারমা (৩৫) নামে একজনকে আটক করে গুইমারা থানা পুলিশের
নিকট সোপর্দ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ম্রাসা মারমার বাড়ি গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামে।
তার পিতার নাম মৃত আরে মারমা।
জানা যায়, গত ১৩ জুন অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে চাকরির ব্যবস্থা
করে দেয়ার কথা বলে হাটহাজারীতে নিয়ে যায়। এরপর তাকে হাটহাজারী এলাকায় একটি মুরগী ফার্মের
পাশে বাসায় নিয়ে রাখে। ঐ বাসায় ম্রাসা মারমাসহ মোট ৪ জন পাহাড়ি থাকত। পরে তাদের পূর্ব
পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারীকে জোর করে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগীর জবানবন্দি অনুসারে চার জনে মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে।
ঘুমের ঔষধের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগী
সুস্থ না হওয়ায় গতকাল বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে
ভর্তি করা করা হয়েছে। রোগী এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।
ঘটনাটির বিষয়ে জ্যোতিসারা ভান্তে গতকাল (১৭ জুন) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে জানান,
“গতকাল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফোন করে না বললে আমি জানতামই না যে, আমার আশ্রমের
পার্শ্ববর্তী থেকে একটা মেয়ে কিছু জানোয়ারদের থাবার শিকার হয়েছে।” উক্ত পোস্টে তিনি
এলাকার জনপ্রতিনিধি, কার্বারি ও মুরুব্বীদের সাথে কয়েকদফা আলোচনা সাপেক্ষে ভুক্তভোগী
নারীকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান এবং হাসপাতালে ভর্তির সময়
পর্যন্ত ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফেরেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরেকটি পোস্টে তিনি অভিয়ুক্তকে এলাকাবাসী আটক করেছে এবং পুলিশের নিকট সোপর্দ
করতে গুইমারা থানার ওসিকে জানানো হয়েছে বলে জানান।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পাশের এলাকার বাসিন্দা।
তিনি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে তার বোনকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। কিন্তু চাকরির
কোন ব্যবস্থা করে না দিয়ে হাটহাজারীতে একটি বাসায় নিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায়
তারা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী দুই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায়
স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতিসারা ভান্তেসহ দুই গ্রামের (কুকিছড়া ও বড়ইতলী) কার্বারী
ও মুরুব্বীরা মিলে আলোচনা সাপেক্ষে এলাকাবাসী অভিযুক্ত ম্রাসা মারমাকে আটক করে আজ বৃহস্পতিবার
(১৮ জুন) দুপুরে গুইমারা থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, ধর্ষণের
অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মামলা করার পর আইনি
ব্যবস্থা নিয়ে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
