![]() |
| প্রতীকী ছবি |
পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের এক সশস্ত্র সদস্যকে
অস্ত্রসহ আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত রাত ৩টার দিকে সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র দল জগপাড়ায় ইউপিডিএফের
সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। ইউপিডিএফের সমর্থকরা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে জেএসএস
সন্তু গ্রুপের ৪-৫ জন সদস্য হতাহত হয়। তবে এ সময় ইউপিডিএফের একজন সমর্থকও প্রাণ হারায়
বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উক্ত ঘটনার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির দুটি দল জেএসএস সন্তু গ্রুপের
সদস্যদের সাহায্য করতে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সন্তু গ্রুপের নিচু স্তরের কয়েকজন সদস্য
সশস্ত্র অবস্থায় তারাবন প্রাইমারী স্কুলের পাশের দোকানে অবস্থান করছিল। তারা জানতো
না যে সেনাবাহিনী তাদের সাহায্য করতে এসেছে। কারণ সেনাদের সাথে জেএসএস সন্তু গ্রুপের
বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের কাজটি উপরের লেভেলের কমান্ডারদের মধ্যেই হয়ে থাকে।
যাই হোক, সেনারা দোকানে অবস্থানরত জেএসএস সন্তু গ্রুপের সদস্যদেরকে ইউপিডিএফের
সদস্য মনে করে ধাওয়া করে ও গুলি চালায়। ফলে জেএসএস সদস্যরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে
বাধ্য হয়।
এ সময় সেনা সদস্যরা চেঙ্গী ইউনিয়নের তারাবন রাজমোহন পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ইউপিডিএফের সদস্য সন্দেহে সন্তু গ্রুপের এক সদস্যকে গেরিলা
পোশাক পরা অবস্থায় এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করে।
অবশ্য তার পরিচয় পাওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে সেনারা তাকে ছেড়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় জনগণের কাছে সেনাবাহিনী ও সন্তু গ্রুপের মধ্যে বোঝাপড়া থাকার
বিষয়টি আর একবার স্পষ্ট হলো।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে রাতে পানছড়িতে সন্তু গ্রুপের দুই জন সদস্য হতাশ হয়ে
বিজিবির একটি ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পন করে। জানা যায়, তারা আসলে ইউপিডিএফের কাছে আত্মসমর্পন
করতে যাত্রা করেছিল। কিন্তু রাস্তা ভুল করে তারা বিজিবি ক্যাম্পে চলে গিয়েছিল।
জেএসএসের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য দল ত্যাগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানিয়েছে, ইদানিং জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে বিভিন্ন
বিষয়ে দলাদলি, ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা
বিরাজ করছে।
তার ওপর দুই সদস্যের দলত্যাগ ও আত্মসমর্পণ এবং সাজেকে রিজাংসি ইস্যুতে জেএসএস
সন্তু গ্রুপের প্রতি সর্বস্তরের জনগণের ও নেটিজেনদের সমালোচনা দলটির ভেতরের হতাশাকে
আরও গভীর করে।
এ অবস্থায় কর্মীদের ধরে রাখতে ও জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার কৌশল
হিসেবে সন্তু গ্রুপ জগপাড়ায় হামলার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা যায়।
তবে এতেও যে তেমন কাজ হবে তা অনেকে মনে করেন না। বরং হতাহতের পর সন্তু গ্রুপের
মনোবল আরও ভেঙে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
