""

সাজেকের মাজলঙে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের জন্য রসদ-সামগ্রী পৌঁছে দিলো সেনাবাহিনী!


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মাজলঙ ব্রিজ পাড়া এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা চালানো জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের জন্য রসদ-সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মধ্যরাত ১২টার সময় শরীদ চাকমার নেতৃত্বে সন্তু গ্রুপের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছয়নাল ছড়া থেকে দু’টি জীপগাড়িতে করে মাজলঙ এলাকায় আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইউপিডিএফের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা। ৩৪ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি দুটি টিমে বিভক্ত হয় একটি টিম শিজকছড়া দিকে ও আরেকটি টিম ডেবাছড়া ব্রীজ এলাকার দিকে যায়। পরে ডেবাছড়া ব্রীজের দিকে যাওয়া টিমটি মাজলঙ ব্রীজপাড়ার পাশাপাশি নির্জন জায়গায় গিয়ে রাতে অবস্থান করে।  

এরপর সকাল ৬টার সময় সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফের নেতা-কর্মী রাতযাপন করতে পারে- এমন সন্দেহে ব্রীজপাড়ার বাসিন্দা জ্ঞান শান্তি চাকমা, হুলোহাবা চাকমা, কৃষ্ণ চাকমা ও পলিন বিহারী চাকমার বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সেখানে ইউপিডিএফের কাউকে না পেয়ে তারা নোয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে বুদ্ধ চাকমার বাড়িতে তল্লাশি করে। সেখানেও কাউকে না পেয়ে বুদ্ধ চাকমার ছেলে মিটন চাকমাকে ধরে নিয়ে যায়। ঘন্টাখানেক আটকে রাখার পর মিটন চাকমাকে ছেড়ে দেয়।

পরে সকাল সোয়া ১০টার সময় সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা মাজলঙের নোয়াপাড়া এলাকায় ব্রাশফায়ার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরে বিকাল ৩টার সময় তারা মাজলঙ ৬ নম্বর পাড়ার দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।

সন্ত্রাসীরা যে দুটি জীপগাড়ি ব্যবহার করে সেখানে এসেছে সেগুলোর মালিকদের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- টুন্টুমনি চাকমা, গ্রাম: বড় কংলাক ও কালাধন চাকমা, গ্রাম: ডেবাছড়ি।

এদিকে, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার সময় সেনাবাহিনীর একটি দল ৬ নম্বর পাড়া এলাকায় গিয়ে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের জন্য পানির বোতলসহ অন্যান্য রসদ-সামগ্রী রেখে দিয়ে আসে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতি সেনাবাহিনীর এমন দরদ দেখে এলাকার জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকার একাধিক ব্যক্তি উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবসময় দেখি যে, সেনাবাহিনী “সশস্ত্র সন্ত্রাসী” খোঁজার নামে সাধারণ জনগণের ওপর নানা অত্যাচার, হয়রানি করে থাকে। কিন্তু জেএসএস(সন্তু)-এর লোকজন প্রকাশ্যে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার করলেও সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের জন্য খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসাটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? জেএসএস-এর হাতে থাকা অস্ত্রগুলো কি তাহলে অস্ত্র নয়? নাকি জেএসএসকে সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?” 

অপরদিকে, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র কমাণ্ডার চিনু মারমার নেতৃত্বে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল গঙ্গারাম লক্ষীছড়ি এলাকার সিদিজ্জ্যাছড়া এলাকায় গিয়ে অফিস পাড়া, মগপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মুরব্বীদের ডেকে গণচাঁদা দাবি করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। পরে তারা উল্টাছড়ির দিকে চলে যায় বলে তারা জানান।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments