""

জেএসএসের সশস্ত্র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের ভিত্তি কি?

 



সোহেল চাকমা


ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জুম্ম জনগণ জাতিগত আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা সশস্ত্র সংঘাতের বিপক্ষে হওয়া সত্ত্বেও জেএসএস কেন ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চায়? জেএসএসের এই সশস্ত্র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের ভিত্তিই বা কি? ইউপিডিএফ’র ওপর জেএসএসের সশস্ত্র হামলার যৌক্তিকতা কোথায়? বিদ্যমান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুম্ম জনগণকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই খুঁজতে হবে। অন্যথায় কারা প্রকৃত অর্থে জুম্ম জনগণের অধিকারের পক্ষে সংগ্রাম করছে এবং কারা শাসক-সরকারের পক্ষ নিয়ে জুম্মদের সম্মিলিত সংগ্রামে বাধা সৃষ্টি করছে তা বুঝা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। পাইকারি মানদণ্ডে রাজনৈতিক দল বা রাজনীতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা প্রকৃত সমস্যা কোথায় প্রোথিত তা অনুধাবন করা যায় না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতার মসনদে বসার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাহাড়ি জাতিসত্তাদের ওপর দমন-পীড়ন জারী রেখেছে। সেনা-গোয়েন্দা-আমলা নির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি গঠনও পাহাড়িদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার বিএনপি সরকারের একটি নীলনকশা। বিএনপি’র এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমানে জেএসএসকেই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি এ কারণেই স্পষ্ট যে, কোন যৌক্তিকতা এবং কিসের উপর ভিত্তি করে জেএসএস ইউপিডিএফের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বা সংঘাত চাপিয়ে দিতে চায় তার কোন সদুত্তর নেই। জেএসএসের পক্ষ থেকেও কেন তারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চায় তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো জুম্ম জনগণকে দিতে পারেনি।

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের পক্ষে জেএসএস এ যাবৎ যে যুক্তিটি খাঁড়া করার চেষ্টা করে তা হল, তথাকথিত চুক্তি বিরোধী “ইউপিডিএফকে নির্মূল” করার মধ্য দিয়ে তারা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন করবে। অথচ পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২৯ বছর পরেও তারা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বড় কোন আন্দোলনের ডাক দিতে পারেনি এবং সরকারের বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক পদক্ষপে গ্রহণ করে চাপ প্রয়োগও করতে পারেনি। অন্যদিকে ইউপিডিএফ পার্বত্য চুক্তির দুর্বলতাগুলো নিয়ে সমালোচনা করলেও চুক্তি বাস্তবায়নে কখনো জেএসএসের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়নি। জুম্ম জনগণের জাতীয় স্বার্থে ইউপিডিএফ সর্বদা দলীয় স্বার্থকে পেছনে রেখে আন্দোলনে সমর্থন যুগিয়েছে। ইউপিডিএফ এখনো বিশ্বাস করে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাহাড়িদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রামই পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তির অনিবার্য পথ। এক্ষেত্রে চুক্তি বিরোধীতার তত্ত্ব খাঁড়া করে পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জারী রাখার কোন যৌক্তিকতা জেএসএসের নেই। কারণ ইউপিডিএফ চুক্তি বিরোধীতার নামে কখনো স্বপ্রণোদিত হয়ে জেএসএসের ওপর আক্রমণ করেনি এবং জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেএসএসের সঙ্গে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের কোন আবশ্যকতা আছে বলেও ইউপিডিএফ মনে করে না। বরং জেএসএসই বিভিন্ন অজুহাতে সেনা-গোয়েন্দাদের মন যোগানোর জন্য ইউপিডিএফের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করেছে। যা এখনো অব্যাহত আছে। একমাত্র জেএসএস তথা সন্তু লারমার ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বা ইউপিডিএফ নির্মূলের নীতির কারণেই শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় কোন রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘটিত হতে পারছে না এটা দিবালোকের মতো সত্য।

জুম্ম জনগণের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে ইউপিডিএফ এ পর্যন্ত ৬ বার জেএসএসের সঙ্গে আলোচনা-বৈঠকে সামিল হয়েছে। প্রথম বৈঠকটি হয় ১৯৯৯ সালের ১৭ মে বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমাসহ অন্যান্য মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায়। এতে ইউপিডিএফের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অনিমেষ চাকমা ও ধর্মজ্যোতি চাকমা। জেএসএসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বর বাবু, মিত্র বাবু ও বিভাষ বাবু। সমঝোতার শর্ত ছিল একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করা, উভয় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী বৈঠক ঠিক করা এবং ছয় মাস পর্যন্ত ইউপিডিএফ দীঘিনালায় কোন সাংগঠনিক কাজ চালাতে পারবে না। তৃতীয় শর্তটি অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অসম হলেও ইউপিডিএফ তা মেনে নেয়। ইউপিডিএফ শর্ত মোতাবেক ছয় মাস দীঘিনালায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালায়নি। অন্যদিকে বৈঠকের কয়েকদিন পরই জেএসএস ইউপিডিএফ সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমাকে খাগড়াছড়ি থেকে ফেরার পথে দীঘিনালা থেকে অপহরণ করে। যদিও স্থানীয় মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায় পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাবুছড়ায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে জেএসএস ইউপিডিএফের অন্যতম সদস্য দেবোত্তম চাকমাকে খুন করে নতুন করে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের সূচনা করে। পরবর্তীতে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে যতগুলো সমঝোতা-বৈঠক হয়েছে তার প্রত্যেকটি জেএসএস ভঙ্গ করেছে এবং শাসকগোষ্ঠীর সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সমঝোতা-বৈঠক হওয়ার পর ২০২২ সালের ১১ জুন পানছড়িতে বিনা কারণে ইউপিডিএফের ওপর হামলা ও ১২ জুলাই দীঘিনালায় ইউপিডিএফ সদস্য জীবন ত্রিপুরাকে হত্যার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র সংঘাত শুরু করে জেএসএস। এই হামলা মূলত শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় সন্তু লারমার “এক বনে দুই বাঘ থাকতে না পারা এবং ইউপিডিএফকে কঠোরভাবে মোকাবেলা ও নির্মূল করার” নীতিরই প্রতিফলন। যা ২০০২ সালের নভেম্বরে খাগড়াছড়িতে জেএসএসের জাতীয় কংগ্রেসে গৃহীত ৩৩ দফা প্রস্তাবের ১৭ নং দফার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত জেএসএসকে নির্মূলপন্থী হিসেবে জুম্ম জনগণের সামনে পরিচিত করেছে।

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে তৃতীয় বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বৈঠকে ইউপিডিএফ ৩টি প্রস্তাব দেয়। যার মধ্যে ছিল ‘ঐক্যফ্রন্ট’ গঠনের প্রস্তাবও। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নবীন কুমার ত্রিপুরাসহ অন্যান্যদের মধ্যস্থতায় খাগড়াছড়ি মহাজন পাড়ায় উপেন্দ্র লাল চাকমার বাড়িতে এ সমঝোতা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে ইউপিডিএফের পক্ষে অংশ নেন সঞ্চয় চাকমা, অনিমেষ চাকমা ও অভিলাষ চাকমা। অপরদিকে জেএসএসের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন লক্ষী প্রসাদ চাকমা ও সত্যবীর দেওয়ান। বৈঠকে ইউপিডিএফ লিখিত ৩ দফা ঐক্য প্রস্তাব তুলে ধরে। দফাগুলো হচ্ছে, এক. অচিরেই ইউপিডিএফ ও জনগণের ওপর আক্রমণ বন্ধ করা, দুই. সরকারের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা, তিন. ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্যে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গড়ে তোলা’। এখানে ন্যূনতম কর্মসূচী বলতে যদি চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন বোঝায় তাতেও ইউপিডিএফ রাজী বলে বৈঠকে জানিয়ে দেয়া হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, জেএসএসের সশস্ত্র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের ভিত্তি কোথায়? সোজাসাপ্টা বলতে গেলে জেএসএস ও সন্তু লারমার উদ্দেশ্য হল- শাসকগোষ্ঠীকে খুশি রেখে আঞ্চলিক পরিষদের গদি টিকিয়ে রাখা এবং গ্রেফতার, জেল-জুলুম এড়িয়ে কতিপয় জেএসএসের ক্ষমতালিপ্সু নেতাকর্মীদের সহায় সম্পত্তি রক্ষা করা। একই সাথে ইউপিডিএফকে কোনঠাসা করার চেষ্টার মাধ্যমে এসি রুমে ক্ষমতায় বসে থাকার উপায় বের করা। সেই লক্ষ্যে তারা ইউপিডিএফের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এতে একদিকে সেনা-গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ডাও বাস্তবায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে তারা মনে করছে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজটিও হচ্ছে। যা আসলে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত নীতি ও ভ্রান্ত ধারণা।

এছাড়া ২০০৩ সালের ২০ জুন স্বাধিকারে প্রকাশিত “ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা” শিরোনামের এক নিবন্ধে লেখা হয়, দুই পার্টির মধ্যে কি ধরণের ঐক্য হবে উক্ত বৈঠকে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে ৩টি বিকল্প প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। প্রস্তাবগুলো ছিল- জেএসএস ও ইউপিডিএফ যৌথ সমন্বয়ে কর্মসূচী গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা, একে অপরের কর্মসূচীতে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে যুগপৎ কর্মসূচী গ্রহণ এবং তৃতীয়টি হচ্ছে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জেএসএস নিজে কর্মসূচী গ্রহণ করবে ও ইউপিডিএফ সে কর্মসূচীতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। এই তিন বিকল্প প্রস্তাবের যে কোন একটি জেএসএস তাদের সুবিধা অনুসারে গ্রহণ করতে পারবে বলেও ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে উক্ত বৈঠকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জেএসএস সেই প্রস্তাবে রাজী হয়নি, এমনকি বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও কার্যবিবরণী লিখিত করতেও অসম্মতি জানিয়েছিল। ফলে নবীন কুমার ত্রিপুরাসহ বিশিষ্ট জুম্মদের ঐক্যপ্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল।

তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জুম্ম জনগণ ও ছাত্র-জনতা যে ঐক্য চায় সেটি কিভাবে বা কিসের ভিত্তিতে হবে? ইউপিডিএফ ও জেএসএসের ঐক্য সমঝোতা-বৈঠক সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম কতটুকু জানে? সন্তু লারমার জেএসএস কেন ঐক্য চায় না এবং কেন ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে তাদের তথাকথিত সশস্ত্র আন্দোলন মনে করে সে প্রশ্ন কি কেউ উত্থাপন করতে পেরেছে? প্রকৃত অর্থে জেএসএস যদি শাসকগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে তাহলে তারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের ঘোষণা দিক, নতুবা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলন ডাক দিক কিংবা গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বাসী না হলে সেনা-শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করুক। এতে ইউপিডিএফ তো প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। কিন্তু ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত ছাড়া সন্তু লারমার জেএসএস কোনোটাই করতে পারছে না!

এখন প্রশ্ন হলো, জেএসএসের সশস্ত্র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের ভিত্তি কোথায়? সোজাসাপ্টা বলতে গেলে জেএসএস ও সন্তু লারমার উদ্দেশ্য হল- শাসকগোষ্ঠীকে খুশি রেখে আঞ্চলিক পরিষদের গদি টিকিয়ে রাখা এবং গ্রেফতার, জেল-জুলুম এড়িয়ে কতিপয় জেএসএসের ক্ষমতালিপ্সু নেতাকর্মীদের সহায় সম্পত্তি রক্ষা করা। একই সাথে ইউপিডিএফকে কোনঠাসা করার চেষ্টার মাধ্যমে এসি রুমে ক্ষমতায় বসে থাকার উপায় বের করা। সেই লক্ষ্যে তারা ইউপিডিএফের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এতে একদিকে সেনা-গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ডাও বাস্তবায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে তারা মনে করছে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজটিও হচ্ছে। যা আসলে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত নীতি ও ভ্রান্ত ধারণা।

সন্তু লারমা নিজেই জানেন জুম্মদের স্বার্থ বিকিয়ে চুক্তি করে তিনি ভুল করেছেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে জেএসএসের চার দিনব্যাপী প্রথম প্রকাশ্যে ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা নিজেই অভিযোগ করেন, ‘চুক্তি সই করা ছিল বিরাট ভুল’। শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকার ‘সৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং জুম্ম জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করার জন্য চুক্তি সই করেছে’। সন্তু লারমার এমন বেদনার্ত আর্তনাদ সেসময় ডেইলি স্টার পত্রিকায় ছাপা হয় (৩ নভেম্বর ১৯৯৯)। এছাড়াও পার্বত্য চুক্তি নিয়ে সন্তু লারমা বিভিন্ন সময় হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং সেগুলো মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় ঢালাওভাবে ছাপা হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে চুক্তি বিরোধীতার জিকির তুলে সশস্ত্র হামলা করা এবং ইউপিডিএফকে নির্মূল করে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন করার বয়ান দিয়ে জেএসএস ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চালাতে বাধ্য হচ্ছে মূলত নিরুপায় হয়ে। না হলে শাসকগোষ্ঠীর উদরে থেকে সন্তু লারমা নিজেকেই রক্ষা করতে পারবেন না। পক্ষান্তরে সন্তু লারমা তার অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার মাধ্যমে জুম্ম গণবিরোধী পরিকল্পনার মধ্যে আবদ্ধ থেকে অচিরেই জেএসএসের যবনিকাপাত ডেকে আনছেন। এছাড়া জেএসএসের সশস্ত্র সংঘাতের কোন যৌক্তিকতা ও ভিত্তি নেই।

* সোহেল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments