সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে অবস্থান করা দোকানদার-ব্যবসায়ীদের নানা জিজ্ঞাসাবাদের
নামে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, “গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর
২০২৬) রাত ৮টার সময় দুটি পিকআপ ও ৬টি ডাম্পার গাড়িতে করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উজোবাজারে
এসে অবস্থান নেয়। এরপর আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বাজারে থাকা দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের
নানা জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছ
থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির নেতা-কর্মীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জেএসএস সন্তু লারমার সশস্ত্র সদস্যরা প্রকাশ্যে
ঘুরে বেড়ালেও সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টা যারা সেই সশস্ত্র
সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে দীর্ঘ এক মাসের অধিক সময় ধরে আন্দোলন করছে তাদেরকে খোঁজ
করছে। সাধারণ দোকানদার-ব্যবসায়ীদের নানা জিজ্ঞাসাবাদ করে হয়রানি করছে।’
আরেকজন বলেন, ‘জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা বর্তমানে নাঙ্গলমারা মাঠে অবস্থান
করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকে টাইগার টিলা সেনাক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র এক
কিলোমিটারের মতো। কিন্তু সেনাবাহিনী সেখানে না গিয়ে উজোবাজারে অবস্থান নিয়ে জনগণকে
হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে।’
‘সেনাবাহিনীর এমন আচরণ দেখে মনে হচ্ছে আসলে তারাই জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের
সহযোগিতা করছে’, বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২২ অক্টোবর সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী হামলা চালায়। এরপর ২৬ অক্টোবর সরকারের একটি প্রতিনিধি দল উক্ত দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করলেও দাবি না মানার কারণে সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ফলে উক্ত দুই সংগঠন সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
