Thursday, November 25, 2021

রামগড়ে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের উপজেলা শাখার ৫ম কাউন্সিল সম্পন্ন

রামগড় প্রতিনিধি ।। “পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ কর, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত কর” এই স্লোগানে খাগড়াছড়ির রামগড়ে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা শাখার ৫ম কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর ২০২১) সকাল ১০টায় রামগড় উপজেলা সদর এলাকায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

“পাহাড় ও সমতলে নিপীড়িত জাতিসমুহের ভূমি বেদখল, রাষ্ট্রীয় দমন পীড়ন রুখতে ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে যুব সমাজ ঐক্যবদ্ধ হই” এই আহ্বানে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা শাখার সভাপতি জার্মেন্ট ত্রিপুরা।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লিটন চাকমার সঞ্চালনায় কাউন্সিল অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ’র রামগড় উপজেলা সংগঠক হ্লাচিং মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যামরন চাকমা ও যুব নেতা কিরণ ত্রিপুরা প্রমুখ।

কাউন্সিল অধিবেশন শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে মূল কাউন্সিল অধিবেশন আরম্ভ হয়।

ইউপিডিএফের রামগড় উপজেলা সংগঠক হ্লাচিং বলেন, এ পাহাড় ও মাটিকে বাঁচাতে হলে, এ দিশাহারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সঠিক ও আলোর পথে আনতে হলে যুবকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও একটি শক্তিশালী গণসংগঠন ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে যুব সমাজকে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পতাকাতলে এসে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনসহ নিপীড়িত, শোষিত-লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে হবে।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা বলেন, পাহাড় ও সমতলে নিপীড়িত মানুষের ভূমি যেভাবে শোষকেরা কেড়ে নিচ্ছে এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে সংখ্যালঘু মানুষেরা ভূমিহীন-নিঃস্ব হবে। তাদের বসবাসেরও জায়গা থাকবে না।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের অসিত্ব আজ বিপন্ন। শাসকগোষ্ঠী অপারেশন উত্তরণ জারি রেখে এখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যায় ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, জেল-জুলুম নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর এই অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যামরন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার নামে সরকার সেনাশাসন জিইয়ে রেখে পাহাড়িদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখেছে। এখানে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, নারী নির্যাতন, ভূমি বেদখলের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলছে। এর থেকে মুক্তির জন্য যুব সমাজকে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জার্মেন্ট ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই মাটি-ভূমি আমাদের প্রাণ। কিন্তু বিভিন্ন কলাকৌশলে রাষ্ট্র যখন আমাদের ভূমি কেড়ে নেয় তখন আমাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো আঘাত পাই। তাই ভূমি রক্ষায় আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।   

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিদ্যমান নানা কুসংস্কার-অসঙ্গতি দূর করে আমরা একটি একটি সভ্য সমাজ বিনির্মাণ করতে পারি। এজন্য যুব সমাজকে সমাজ সংস্কারমূলক নানা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে।

কাউন্সিল অধিবেশন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, দমন-পীড়ন বন্ধ করা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

পরে কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে জার্মেন্ট ত্রিপুরাকে সভাপতি, লিটন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও প্রদীপ ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন কমিটিরকে শপথ বাক্য পাঠ করান গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যামরন চাকমা।

---

No comments: