![]() |
| প্রদীপ লাল ও কুসুম প্রিয় চাকমার মরদেহ। ফাইল ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিএইচটি নিউজ
শনিবার,
৪ এপ্রিল ২০২৬
আজ ৪ এপ্রিল ২০২৬ প্রদীপ লাল ও কুসুম প্রিয় চাকমা হত্যাকাণ্ডের ২৮ বছর পূর্ণ
হলেও খুনিরা রয়েছে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৯৯৮ সালের এই দিন খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলাধীন
লতিবান নামক স্থানে জনসংহতি সমিতি তথা সন্তু লারমার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা তাদের
দু’জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এটি ছিল পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম
ভ্রাতৃ হত্যার ঘটনা।
তৎসময়ে কুসুম প্রিয় চাকমা নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও পাহাড়ি গণপরিষদের
পানছড়ি থানা শাখার নেতা ছিলেন। তিনি জনসংহতি সমিতির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আর প্রদীপ লাল চাকমা ছিলেন পাহাড়ি গণ পরিষদের পানছড়ি থানা শাখার সভাপতি।
জানা যায়, সেদিন (৪ এপ্রিল’৯৮) কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল চাকমাকে
জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা ডেকে পাঠালে তাঁরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে খাগড়াছড়ি সার্কিট
হাউজে গিয়েছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিলো তা জানা সম্ভব হয়নি।
সন্তু লারমার সাথে কথাবার্তা শেষে কুসুম প্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমা সার্কিট
হাউজ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে করে পানছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁরা লতিবান এলাকায় পৌঁছলে
আগে থেকে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা সন্তু
লারমার লেলিয়ে দেয়া জেএসএস সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে
ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুবই নির্মমভাবে তাদেরকে হত্যা করে।
স্মতর্ব্য যে, পার্বত্য চুক্তির বহু আগে ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন ধুধুকছড়ায় প্রকাশ্য
বক্তৃতাদানকালে জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা তিন সংগঠনের গণতান্ত্রিক কার্যক্রম
নিয়ে বিষোদগার করেন। সেদিন তিনি ‘জঙ্গী আন্দোলন করে স্বায়ত্তশাসন আদায় করা যায় না’
বলে মন্তব্য করলে সমাবেশস্থলেই জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রদীপ লাল চাকমা সভায়
সমবেতদের মধ্য থেকে দাঁড়িয়ে সন্তু লারমার কাছ থেকে জানতে চান ‘তাহলে কীভাবে আন্দোলন
করা?’ কিন্তু সন্তু লারমা তার প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি। সন্তু লারমার সহযোগি এক উচ্চ
পদস্থ কেন্দ্রীয় নেতা ‘পরে আলোচনা করবো’ বলে দ্রুত তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। পরে
প্রদীপ লাল চাকমা তার প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার ক্ষোভ জানিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনসংহতি সমিতি তথা
সন্তু লারমা শেখ হাসিনার সাথে আপোষের পথে পা বাড়ালে কুসুম প্রিয় চাকমা ও প্রদীপ লাল
চাকমা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পক্ষাবলম্বন করেন এবং জনগণের অধিকার পাশ কাটিয়ে সরকারের
সাথে জেএসএস-এর আপোষ চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্পর্কে বিস্তর সমালোচনা করেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
