খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১নং খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের ২নং
ওয়ার্ডের অন্তর্গত আকবাড়ি দোকান এলাকায় এক সন্ত্রাসী হামলায় ইউপিডিএফ সদস্য নিউটন চাকমা
ওরফে নির্মল (৪৭) হত্যার শিকার হন। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাংগঠনিক কাজে অবস্থান
করার সময় অজিত চাকমার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট একদল ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসী মোটর
সাইকেলযোগে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক
তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের সাথে সরাসরি অংশ নেওয়া দুই গোয়েন্দা
কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের একজন হলেন- মাহফুজুর রহমান মাসুম। তিনি খাগড়াছড়ির
৩০ বীর সেনা জোনের এএসইউ শাখায় করপোরাল হিসেবে খাগড়াছড়ি শহরে গোয়েন্দা সংস্থায় দায়িত্ব
পালন করছেন। তার মূল কাজ নাকি ইউপিডিএফ নেতা-কর্মীদের হত্যার মিশন পরিচালনা করা।
অপরজন হলেন- মাসুদ রানা। তিনি একই জোন ও পানছড়ি সাব-জোনের এফএস গোয়েন্দা
সদস্যদের সিনিয়র হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
![]() |
| মাসুদ রানার দুই চেহারার ছবি |
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেদিন নিউটন চাকমাকে হত্যার মিশনে সন্ত্রাসীদের
সাথে উক্ত দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। মাহফুজুর রহমান মাসুম কালো
রঙের মুখোশ/মাস্ক পরে সন্ত্রাসীদের সাথে ছিলেন এবং তিনিই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বলে
একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে। এ সময় অপর গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাসুদ রানা মাহফুজুর রহমানের
সাথে ছিলেন।
সূত্রটির দেওয়া তথ্য মতে, প্রথমেই ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসী অজিত চাকমা ব্রাশফায়ার
করেন। এরপর অন্যান্যরা উপর্যুপুরি গুলি চালিয়ে নিউটন চাকমাকে হত্যার মিশন সম্পন্ন করেন।
হত্যার পর তারা মোটর সাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সেদিন হত্যাকাণ্ডের পর মোটর সাইকেলে করে চলে যাওয়ার মুহুর্তের একটি ছবি
সিএইচটি নিউজের হাতে এসেছে। ছবিটি কিছুটা অস্পষ্ট হলেও মোটর সাইকেলের ওপর দু’জন ব্যক্তির
পাশে একজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা লালচে রংয়ের গেঞ্জি পরা ব্যক্তিটি মাহফুজুর রহমান
মাসুম বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
![]() |
| লালচে রংয়ের গেঞ্জি পরা ব্যক্তিটি মাহফুজুর রহমান মাসুম বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। ছবিটি নিউটন চাকমাকে হত্যার পর মোটর সাইকেলে করে চলে যাওয়ার মুহুর্তের বলে জানা গেছে। |
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অজিত চাকমা ছাড়াও আরো যাদের নাম
পাওয়া গেছে তারা হলো- জলসা ত্রিপুরা, মিলন ত্রিপুরা, ধর্মজ্যোতি চাকমা, দর্শন চাকমা,
আশিষ ত্রিপুরা, রবিন চাকমা, অনিয়ন চাকমা, উজ্জ্বল চাকমা। তারা সবাই সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট
ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র সদস্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত ইউপিডিএফ নেতা-কর্মী হত্যার বহু ঘটনায় রাষ্ট্রীয়
বাহিনী ও গোয়েন্দাদের জড়িত থাকার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। এবার নিউটন চাকমা হত্যার ঘটনায়
উক্ত দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত
হলো।
রাষ্ট্রের নিয়োজিত গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনে
জড়িত থাকার এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নাগরিক
সমাজ ও সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে
উক্ত দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি
জানিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


