""

গুইমারায় ইউপিডিএফ নেতা তানিমং মারমার বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : ইউপিডিএফ

 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলাধীন কুকিছড়া গ্রামে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নেতা তানিমং মারমার বাসা থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানেয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করেছে ইউপিডিএফ।

আজ ৮ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ভাষ্য মতে “ইউপিডিএফ এর পোস্ট পরিচালক তানিমং মারমার বাসভবন ঘেরাও করার সময় সেখানে অবস্থানরত দুই জন ইউপিডিএফ সদস্য দৌঁড়ে নিকটস্থ ছড়ায় ঝাঁপ দেয়। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তারা পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ...

“পরবর্তীতে উক্ত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনী ০১টি দেশীয় পিস্তল, ০১টি দেশীয় পাইপ গান, ০৬ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন (গুলি), ০২ রাউন্ড কার্টুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।”’

অংগ্য মারমা সেনাবাহিনীর উক্ত বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে নাক্যাপাড়া ক্যাম্প থেকে ১৬ জনের একটি সেনাদল কুকিছড়া গ্রামে যায়। অন্যদিকে সিন্দুকছড়ি জোন থেকে অপর একটি সেনা দল প্রথমে ৮টি গাড়ি যোগে সাইংগুলি পাড়া পর্যন্ত যায়, তারপর সেখান থেকে আনুমানিক সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে কুকিছড়ায় গিয়ে নাক্যাপাড়া ক্যাম্প থেকে আসা দলটির সাথে মিলিত হয়।

‘এরপর রাত ২টার দিকে উভয় সেনাদল কংহ্লাপ্রু মারমার বাড়ি ঘেরাও করে রাখে এবং ভোরের দিকে হৈহল্লা করে গ্রামবাসীরা জড়ো হওয়ার আগেই দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।’

ইউপিডিএফ নেতা বলেন, সেনারা তানিমং মারমার বাড়ি ঘেরাও করেনি এবং কংহ্লাপ্রু মারমার বাড়িতেও তল্লাশি চালায়নি। তাই তানিমং মারমা বা অন্য কারোর বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি সম্পূর্ণ অবান্তর।

তানিমং মারমা ও ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হীন মতলবের বশবর্তী হয়ে সেনারা উক্ত অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অংগ্য মারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে বর্তমান বিএনপি সরকার ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের নীতি হুবহু অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করে বলেন, আজকের অস্ত্র উদ্ধার নাটক হাসিনা আমলে মঞ্চস্থ অস্ত্র উদ্ধারের নাটকের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়ে কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা কর্মকর্তার প্রমোশন লাভ হতে পারে, ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার মাল-মসলা জোগাড় করা যেতে পারে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

তিনি অবিলম্বে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার নাটক বন্ধ এবং নিরপেক্ষভাবে ’অস্ত্র উদ্ধারের’ ঘটনা তদন্ত পূর্বক প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments