নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি (বৈসুক-সাংগ্রাই-সাংলান-সাংক্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু...) উপলক্ষে আন্তঃজাতিগত ঐক্য ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সংগঠনের ফেইসবুক পেইজে পার্বত্য চট্টগ্রামের
জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
শুভেচ্ছা বার্তায় শিশু-কিশোর-নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন জানিয়ে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টির অধিক ভিন্ন ভাষাভাষী ১৫টি জাতিসত্তার সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব হল বৈসুক-সাংগ্রাই-সাংলান-সাংক্রাই-বিঝু-বিষু-বিহু বা সংক্ষেপে বৈ-সা-বি। এছাড়া ম্রোরা 'চাংক্রান' ও সান্তালরা 'বাহা পরব' নামে এই উৎসব পালন করে থাকে। মূলত ৮০'র দশকে সামরিক শাসনের সময় বৈ-সা-বি'র চেতনায় পাহাড়িরা ঐক্যবদ্ধ হয়। জাতিগত বিভেদের বিরুদ্ধে বৈ-সা-বি'র চেতনা তৎকালীন সময়ে পাহাড়িদের আন্দোলিত করেছিল। যা আজও প্রাসঙ্গিকতা বহন করে। প্রতিবছর এই বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎসবের দিনে শহর-নগর কিংবা বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত থাকা পাহাড়িরা ছুটে যায় নিজ পরিবারের কাছে, একত্রিত হয় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে, মিলন ঘটে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের। সেজন্য বৈ-সা-বি শুধুমাত্র একটি সামাজিক উৎসব নয়, এটি যেমন একদিকে পাহাড়িদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বার্তা দেয় অন্যদিকে আন্তঃজাতিগত ঐক্য, পারস্পরিক সহমর্মিতা, পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনেও সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়িরা পুষ্পমাল্য দিয়ে বাড়ি-ঘর সাজসজ্জা করে, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের স্নান করায় এবং বিভিন্ন জায়গায় মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা ও বাসা-বাড়িতে খাবারের আয়োজন করে থাকে। যা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে এবং জাতীয় চেতনাবোধের জাগরণ ঘটায়।
এতে আরও বলা হয়, যে জাতি নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চেতনায় বলীয়ান
সেই জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কেউ রুদ্ধ করতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের
জাতিগত ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য বৈ-সা-বি উৎসব ঘনিয়ে এলে শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক
উস্কানিমূলক প্রপাগান্ডা ও নানা ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হয়। কাজেই আমাদেরকে সেইসব বিষয়
সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও রক্ষার্থে
উৎসবের নামে বিভিন্ন অপসংস্কৃতি চর্চার বিরুদ্ধেও আমাদেরকে সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা পালন
করতে হবে। আমরা মনে করি, উন্নত সংস্কৃতি চর্চা ও চেতনাবোধই সমাজ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করে
এবং জাতীয় আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখে। বৈ-সা-বি উৎসব আমাদের সেভাবেই পালন করা উচিত যা
জাতীয় জীবনের ঐক্য, সুখ, শান্তি ও আন্তঃজাতিগত সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অস্তিত্ব
রক্ষার সংগ্রামকে আরো মজবুত ও একিভূত করবে। আমাদের প্রত্যাশা বৈ-সা-বি উৎসব হোক সকল
পাহাড়ি জনগোষ্ঠেীর অধিকার প্রতিষ্ঠার এক সংগ্রামী চৈতন্য। বসন্তের সুশোভিত বৃক্ষের
মতো পাহাড়িদের জাতীয় জীবনে বৈ-সা-বি নিয়ে আসুক, ঐক্যের দৃঢ়তা ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার
আকাঙ্ক্ষা।
পিসিপির সভাপতি সমর চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা এই শুভেচ্ছা বার্তাটি প্রদান করেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
