""

লোগাং হত্যাকাণ্ড: পাহাড়ে সভ্যতার সংজ্ঞা

[আগামীকাল ১০ এপ্রিল লোগাঙ গণহত্যার ৩৪ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে ঘটনার বিষয়ে জানার সুবিধার্থে পুরোনো কিছু লেখা এখানে পুনঃপ্রকাশ করছি- সম্পাদক]

-------------------------------------------------------------------------

লোগাং হত্যাকাণ্ড: পাহাড়ে সভ্যতার সংজ্ঞা

- রোকন রহমান/জাহিদ নেওয়াজ

“শৃঙ্খলা যেখানে অবিচার,

বিশৃঙ্খলাই সেখানে নতুন নিয়মের জননী”

-রঁমা রঁল্যা

সভ্যতা মানে ইটদালানের সরকারী কোঠা, সভ্যতা মানে সবুজ ল্যা-রোভার উর্দি পরা সশস্ত্র সংগঠন। সেখানে সভ্যতা মানে সন্ধ্যের পর ঘরে বন্দী, সভ্যতা মানে বাঙালি ও পাহাড়ির আগুন চোখে চোখাচোখি। সভ্যতার আরো সংজ্ঞা আছে সেখানে, সকাল ন’টার আগে এবং বিকেল তিনটের পরে শহর ছাড়তে না পারা। যখন তখন উর্দি পরা লোকজনের কাছে কৈফিয়ত দেয়া। সারা শহরের অলিতে গলিতে পেছনে টিকটিকি লেগে থাকা। সভ্যতা মানে টেলিফোনে বাইরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া। এটা হচ্ছে খাগড়াছড়ি সভ্যতা। অশান্ত মানচিত্রের সভ্যতা হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা। কোথাও কোন শিল্প কারখানা, উৎপাদন সম্পর্কিত প্রকল্প নেই। প্রতিদিন পার্বত্য অঞ্চলে ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকা। সভ্যতার নগ্ন বুভুক্ষু পেট গিলে খাচ্ছে প্রতিদিন এই পরিমাণ অংক। এই সভ্যতায় কোথাও চোখে পড়বে না উন্নত জীবনাচার, উন্নয়নের তথাকথিত স্পর্শ। এই সভ্যতা মানুষসৃষ্ট। এখানে শোষক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সভ্যতার বিকৃত উপস্থাপন চলছে নিরন্তর। মানুষ এখানে প্রায় অমানুষ। জীবনযাপনের সংজ্ঞায় মানুষ অসভ্য এখানে প্রতিদিন। সভ্যতার আরো সংজ্ঞা আছে পার্বত্য অঞ্চলে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা (?) জনিত কারণে চেক পোষ্ট আছে যত্রতত্র। এক বাজার থেকে অন্য বাজারে প্রবেশের মুখে আপনাকে বাঁধা দেয়া হবে। লোগাং যাওয়ার পথে এক পাহাড়ি ছাত্র জানায় তারা কখনো এদিকে আসতে পারেনি, আমাদের জন্যে আসতে পারলো। অবশ্য ঢাকা থেকে আসার কারণে আমাদের সৌজন্যে তেমন বাধা দেয়নি। এখানেও অধিকার বৈষম্য। নাগরিক অধিকারের এক কানাকড়িও পাহাড়ি জনগণ পায় না।

প্রিয় পাঠক, আমরা খাগড়াছড়ি জেলার লোগাং গুচ্ছগ্রামে হত্যাকাণ্ড উত্তর অবস্থা দেখতে গিয়েছিলাম। খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ২০ মাইল ভেতরে, সীমান্তের দু’মাইলের কাছে লোগাং নদীর পাশে একটি টিলায় অবস্থিত এই গুচ্ছগ্রাম। যদিও চারপাশে পাহাড় কিন্তু সবুজ অরণ্যের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। বৈশাখের প্রচ- খরতাপ দগ্ধ দুপুরে আমরা সেখানে উপস্থিত হই কিছুটা পায়ে হেঁটে, কিছুটা গাড়িতে চড়ে। টিলাটিতে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন। কাল্পনিকতায়ও আমরা সেখানে জনবসতি আবিস্কার করতে পারিনি। ঘটনার আঠারো দিন পরও মৃত মানুষের হাড়গোড় পাওয়া গেছে। অথচ মাটি পরিস্কার, বৃষ্টি কিংবা পরিচ্ছন্ন অভিযানের ফলে। টিলার চারিদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টাওয়ার। আমাদের সশস্ত্র রক্ষীদের ফাঁক গলিয়ে কিভাবে দিন দুপুরে এ ধরনের অমানবিক হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিতা-ব ঘটে তা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। গুচ্ছগ্রামটির মাটি আগুনের মত গরম হয়ে আছে, যেন মাথার উপরে সূর্য। একটি পোড়া ভিটেয় দেখা গেল শিশুর ঘুমন্ত ছাপ। মনে হয় ঐ অবস্থায় শিশুটি দগ্ধ হয়।    

পাশের টিপরা বসতির কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। কোন অদৃশ্যের তর্জনী শাসন তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে কে জানে। বাঙালি যারা মুখ খুলেছে তারা শান্তিবাহিনীর ওপর এ দায় চাপিয়েছে। পাহাড়িরা বাঙালিদের ওপর। আমরা সিদ্ধান্তে আসি, যারাই করুক চারপাশের বিডিআর, সৈন্যের উপস্থিতিতে কিভাবে এটা সম্ভব ? শান্তিবাহিনী এ হত্যাযজ্ঞ চালালে বিডিআর - আর্মি নিশ্চুপ ছিল কিংবা বাঙালিরা করলেও তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। কেন তাদের এই নিরবতা? মৃতের সংখ্যা নিয়ে এত স্ববিরোধিতা কেন? এতে নিজেদের দুর্বলতাই কি প্রকাশ পায় না? লাশগুলোর কি হলো সভ্যতা? ফেরত দেয়া যায়নি কোন অনিবার্য কারণবশতঃ? মৃতেরা কি তাদের ধর্মানুযায়ী সভ্যতাকে স্পর্শ করতে পেরেছে?

আমাদের কৌতুহল, ঘুরে ঘুরে দেখা জিজ্ঞাসাই এ প্রতিবেদন। প্রকৃতির নিসর্গতায় মুগ্ধ হওয়ার অবকাশ ছিল না। শুধু শোকার্ত মানুষের অসহায় মুখগুলো। প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা নিয়ে আমাদের এই বক্ষ্যমান অনুসন্ধান।

লোগাং গণহত্যার আগের ঘটনা

লোগাং এ সংঘটিত গণহত্যার নেপথ্য ঘটনা কি? এ সম্পর্কে তিন রকম ভাষ্য পাওয়া গেছেঃ (১) অগ্রসর বোদ্ধনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র চন্দ্র সাগর চাকমা। ১০ এপ্রিলের ঘটনায় তার ভাই রাজেন্দ্রলাল চাকমা, ভাইপো কিরণ বিকাশ চাকমা (১২) ও ভাইঝি চক্ষু চাকমা (১৬) নিহত হয়েছে। চন্দ্রসাগর জানায়, গরু চরাতে গিয়েছিলো তিন বাঙালি রাখাল বালক। তাদের একজন ছিলো খ্যাপাটে। রাখাল বালকরা গরু চরানোর ফাঁকে মার্বেল খেলেছিলো। খ্যাপাটে বালকটি বেশি খেলেছিলো। খ্যাপাটে বালকটি বেশি মার্বেল নিয়ে যায়। এতে বাকি দু’জন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে। পরে বাঙালিদের গ্রামে এসে প্রচার করে পাহাড়িদের হামলায় সে নিহত হয়েছে। উত্তেজিত বাঙালিরা পরে হামলা চালায় লোগাং গ্রামে কোন রকম সত্যতা যাচাই ছাড়াই। লোগাং এর বরুণ চন্দ্র চাকমারও অনুরূপ বক্তব্য।           

(২) গণহত্যার নেপথ্য ঘটনার দ্বিতীয় ভাষ্যটি এ রকমঃ একজন চাকমা তরুণী গরু চরাতে গেলে কয়েকজন বাঙালি রাখাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে উত্তেজিত চাকমা যুবকরা রাখালদের একজনকে হত্যা করলে বাঙালিরা লোগাং গ্রামে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালায়।

(৩) পানছড়ি বাজারের দোকানদার মালেক এবং পাইলট পাড়ার ভিডিপি সদস্য ইসহাক বলেছেন Ñ বাঙালিরা গরু চরানোর সময় পাহাড় থেকে শান্তিবাহিনীর একটি দল নেমে আসে। বাঙালি রাখালদের তারা হরিণ ধরার কোন দল দেখেছে কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। সুদুত্তর না পেয়ে শান্তিবাহিনী কবির আহাম্মদকে (পিতা মনা মিয়া) হত্যা করে। পরবর্তীতে হামলা চলে লোগাং গ্রামে। মালেক এবং ইসহাক বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছে Ñ আগে পাহাড়িরা মেরেছে। পরে মেরেছে বাঙালিরা।

কবির এর মৃত্যু রহস্যজনক

পানছড়ি থেকে লোগাং পর্যন্ত ৭ কিমি এলাকার পাহাড়ি এবং বাঙালিদের সঙ্গে আলাপ করে এটা স্পষ্ট হয়েছেঃ ১০ এপ্রিল আনুমানিক সকাল ১০ টা সাড়ে ১০টায় একজন বাঙালি রাখাল কবির নিহত হয়। পরবর্তীতে নির্বিচারে হামলা চলে পাহাড়িদের গ্রামটিতে। তবে বিভিন্ন রকম ভাষ্যই প্রমাণ করে কবির আহম্মদের মৃত্যু রহস্যজনক। এই মৃত্যুর পেছনে কোন বিশেষ অপশক্তি’র হাত রয়েছে। আর এই মৃত্যুকে কেবল গণহত্যা চালানোর জন্যে ছুতো হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রত্যাগত শরণার্থী নিশ্চয়তা কোথায় :                                            

যে গ্রামটিতে ১০ এপ্রিল গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার অধিবাসী ছিলো মূলতঃ ভারত থেকে প্রত্যাগত শরণার্থী পাহাড়িরা। একটি সূত্র মতে এই গ্রামে ৫৬৪টি পরিবার ছিলো। ঘরের সংখ্যা ছিলো মোট ৬০৫টি। অবশ্য ৩ বছর আগে ভারত প্রত্যাগত বরুন চন্দ্র চাকমার মতে গুচ্ছগ্রামটিতে পরিবারের সংখ্যা ছিলো ৫৮৯। শান্তি রঞ্জন (৩০) এ সংখ্যাকে ১৫০০ বলে উল্লেখ করেছেন। শান্তি আরো জানান ঘটনার আগের দিন ৯ এপ্রিল আরো ৩০টি পরিবারের ৭৫ জন শরণার্থী ভারতের শরণার্থী শিবির থেকে ফিরে এসেছিলো। তারা ছিলো নিকটবর্তী বিডিআর ক্যাম্পে। লোগাং-এর গণহত্যার পর এই ৭৫ জনও নিখোঁজ রয়েছে। শান্তি রঞ্জন দঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ফিরে এসেছিলাম শরণার্থী শিবির থেকে। সেখানে খাওয়া-পরার নিশ্চয়তা না থাকলেও জীবনের নিশ্চয়তা ছিলো। এখানে তাও নেই। আমরা কোথায় যাবো ?

যেভাবে হামলা হয়েছে

পানছড়ি মালেক এবং পাইলট পাড়ার ইসহাকের ভাষ্যমতে তারা যা শুনেছেনঃ বাঙালিদের গ্রামে তখন জুম্মা’র নামাজের প্রস্তুতি চলছিলো। তখনই খবর আসে একজন বাঙালি নিহত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে পাহাড়িদের গ্রামটিতে।

চন্দ্র সাগর চাকমা জানানঃ আমি তখন নদীতে মাছ ধরছিলাম। গ্রামে আগুন দেখে ফিরে আসি। আমাকেও আগুনে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছি। আমার ভাইঝি চক্ষু চাকমাকে প্রথমে উরুতে গুলি করা হয়। তারপর পেটে চালানো হয় দায়ের কোপ। রাজেন্দ্র চাকমা এবং ভাইপো কিরণ বিকাশ চাকমা (১২) কেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিডিআরকে বলেছি - আমাদের বাঁচান। তারা বলেছে - কিচ্ছু হবে না। চন্দ্র সাগর বলেন বাঙালি, ভিডিপি এবং আনসার হামলা করেছিলো। হামলার নেতৃত্ব দেয় ভিডিপির জাকির এবং বাঙালিদের মধ্যে বাশার, ইদ্রিস, মনা মিয়া এবং মঙ্গল।          

পাশের গুচ্ছ বড়গ্রামের নীরুলা বলেন, বাঙালিরা হামলার সময় বলছিলো - আজ পাহাড়িদের রক্ত খাবো। আক্রান্ত গ্রামের প্রভারঞ্জন চাকমা (পিতা ধীরেন্দ্র চাকমা) জানান- আনসার, ভিডিপি ও বাঙালিরা যৌথভাবে আক্রমণ করে। জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলাম বলে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।

শান্তি রঞ্জন (পিতা রাজ মোহন) বলেছেনঃ আমি তাস খেলেছিলাম। বাঙালিদের সঙ্গে আনসার, ভিডিপিরাও হামলা করে। এমনকি বিডিআরও ব্রাশ ফায়ার করেছে। ব্রাশ ফায়ারের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এলএমজি’র বর্ণনা দিয়ে বলেন-ওটা থেকেও টানা গুলি হয়েছে।

নিহতের সংখ্যা

১০ এপ্রিলের গণহত্যায় কতোজন পাহাড়ি নিহত হয়েছে? এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ বাবু কল্পরঞ্জন চাকমার ভাষ্যঃ নিহতের সংখ্যা কয়েক শত। খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিহতের সংখ্যা অনেক বলে উল্লেখ করেছেন। ভাই হারানো চন্দ্র সাগর চাকমা বলেছেনঃ আমি ক্লাব ঘরে রাখা ১৫০ টি লাশ গুনেছি। প্রভারঞ্জন চাকমা নিহতের সংখ্যা ৩০০/৪০০ এবং শান্তিরঞ্জন এ সংখ্যাকে ১০০/১৫০ বলে উল্লেখ করেছেন। একটি সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১৩৮ বলা হয়েছে।

লোগাং গণহত্যা সম্পর্কে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

গত ২৭ এপ্রিল সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লোগাং পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ সম্পর্কে প্রিয় প্রজন্মকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এটা অবিশ্বাস্য। ভাবতে পারি না মানুষ মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে। ধ্বংস করে দিতে পারে তাদের বাস্তুভিটা। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান সম্পর্কে তিনি বলেন, বল প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, কালবিলম্ব না করে সংলাপের মাধ্যমেই জাতীয় এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিষয়টি পার্লামেন্টে যটো দ্রুত সম্ভব আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিদিন এক কোটি টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে কতো টাকা খরচ হয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশিত হওয়া উচিত।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, অখণ্ড বাংলাদেশের স্বার্থেই একের বিরুদ্ধে অন্যকে খেপিয়ে দিলে চলবে না। শক্তি প্রয়োগে সমস্যার সমাধান হবে না। সকল পক্ষকেই তা রিয়েলাইজ করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাসমূহের ভাষা, কৃষ্টি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যসহ মৌলিক মানবাধিকার সমূহ সুপ্রতিষ্ঠত করার মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। আশা করি জাতীয় সংসদের মাধ্যমে খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগী হবেন।

শেষ কথা

পাঠক, আজকের মার্কিন সভ্যরা এক সময় নির্মমভাবে আমেরিকার আদি অধিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। আজকেও কৃঞ্চাঙ্গ জনগণের উপর শোষণের বিকৃত ষ্টীম রোলার চালাচ্ছে। সব কিছুই শোষক দুর্বৃত্তের শ্রেণী স্বার্থে। পুঁজিবাদের নির্মম টিকে থাকার আয়োজনে এই যন্ত্রণাদগ্ধ নির্মমতা চলবে। আমাদের সামষ্টিক প্রতিরোধেই কেবল এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তি সম্ভব। আমরা পার্বত্য অঞ্চলে সমাধান দাবি করি। বিচ্ছিন্নতা নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে পাহাড়িদের নিজস্ব সংস্কৃতি জীবনাচার মেনে নিয়েই এ সমস্যার সমাধান করা যায়। তাদের নিশ্চিহ্ন করার ভেতর কোন সুবুদ্ধির পরিচয় নেই। অতপর আমরা অপেক্ষায় থাকি সোনালী দিনের। আমরা ভাবতে থাকি এসব হত্যাকা- আর ঘটবে না, এই ধ্বংসযজ্ঞ আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হবে না এবং নিউজপ্রিন্টের বুকে কালো কলমের আঁচড় কাটতে হবে না নিরন্তর। আমাদের এ স্বপ্নে কি কাল্পনিকতার অবাস্তব ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে? অবশ্যই, আমাদের স্বপ্নের ঘোড়া একদিন এই সভ্যতাকে লাথি মেরে ছুটে চলবে শোষনহীন সমাজ ব্যবস্থার আলিঙ্গনে।

 [সৌজন্যেঃ সাপ্তাহিক প্রিয় প্রজন্ম/ ১০ মে ’৯২] 

সূত্র: রাডার (লোগাং গণহত্যা সংখ্যা)



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments