সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
গত ১১ মে সন্ধ্যায় একটি জীপ গাড়িতে করে বিক্রির জন্য দীঘিনালায় নেওয়ার পথে আগালাছড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সুরমোহন চাকমার স্ত্রী লতা চাকমা(৫০)-এর নিজস্ব বাগান
থেকে কর্তনকৃত ৭৪ লক (আনুমানিক ১৫২ ঘনফুট) সেগুন কাঠ ও জীপ গাড়িটি জব্দ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জের কর্মকর্তারা।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে জব্দকৃত কাঠ ফেরত দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে জানানোর কথা বলেছিলেন বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান।
আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১:০০টার সময় মো.
আক্তারুজ্জামান স্থানীয় মুরুব্বী ও কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির লোকজনকে ফোন করে উক্ত কাঠ ও জীপ গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ‘কাঠগুলো ফেরত দেওয়া হবে না’ এমন খবর পেয়ে ভূক্তভোগী লতা চাকমা অসহায়ত্ব
প্রকাশ করে বলেন, “আমি একজন বিধবা। পরিবারের খরচ মেটাতে নিজের বাগান থেকে শ্রমিক দিয়ে কয়েকটি গাছ
কর্তন করেছিলাম বিক্রির জন্য। কিন্তু বনবিভাগ গাছগুলো বিক্রি করতে দিল না। তারা আমার
গাছগুলো জব্দ করেছে। আমি এখন আরো বেশি অভাব-অনটনের মধ্যে পড়ে গেলাম।”
তিনি জব্দকৃত কাঠগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য বনবিভাগের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
কাঠ পরিবহনে ব্যবহৃত জীপ গাড়িটির চালক মো. আল আমিন বলেন, আমি দীঘিনালার বোয়ালখালী
এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফের ব্যক্তি মালিকানাধীন জীপ গাড়িটি ভাড়া চালায়। সারাদিন মানুষের
বিভিন্ন গাছ, বাঁশ, কলা, ঝাড়ুফুল হলুদসহ নানা উৎপাদিত পণ্য পরিবহন করে বিকালে গাড়ি
মালিকের সাথে হিসাব করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চালাই। বন কর্মকর্তারা যদি গাড়িটি আটকিয়ে
রাখে তাহলে আমার পরিবার পথে বসবে। অন্য দিকে গাড়িটি ছাড়িয়ে আনার জন্য মালিক আমাকে চাপ
চাপ দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাজেকের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, “সাজেকে সাধারণ
জনগণের অভিশাপ হচ্ছে বনবিভাগ। তারা নানা আইন-কানুন দেখিয়ে কাঠ, ঝাড়ুফুল, বাঁশ, কলা
বহনকারী গাড়ী থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে টোল আদায় করে থাকে। সাজেক পর্যটনে সেন্টারিংয়ের
কাঠ নিলেও তাদেরকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। রাঙামাটি বনবিভাগে ঝাড়ুফুল, গাছে গাড়ি টিপি
(ট্রানজিট পাস বা পরিবহন পারমিট) কাগজ নিতে খরচ দিতে হয় ত্রিশ হাজার টাকা। আর বাঘাইহাট রেঞ্জে পুনরায় কাগজপত্র তদন্তের নামে ২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়। এভাবে ব্যবসায়ীদের চাপ প্রয়োগ
করে টাকা আদায় ছাড়া বনবিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জের কর্মকর্তাদের বোধহয় আর কোন কাজ নেই। অথচ বনজ সম্পদ রক্ষার
ক্ষেত্রে তারা তেমন কোন দায়িত্ব পালন করেন না।”
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘বাঘাইহাট রেঞ্জের বনকর্মকর্তা কর্তৃক সাধারণ জনগণ
বার বার হয়রানির শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসী নিজেদের ইচ্ছামত দোকান-বাড়ি-বিহার নির্মাণ
করতে পারে না। শিক্ষা উন্নয়নের জন্য স্কুল-কলেজ নির্মাণ করতে পারছে না। সাজেক কলেজ
নির্মাণের শুরু থেকে বনবিভাগ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে আসছে। এ জন্য তারা কলেজ
নির্মাণ কাজে যুক্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে মামলাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলেজটির
নির্মাণ কাজ শেষ হলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, নিজের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ে যদি সাধারণ জনগণ হয়রানি হয়,
তাহলে তারা নিশ্চয় বসে থাকবে না। বনবিভাগের এ শোষণের বিরুদ্ধে সাজেকবাসী আন্দোলন করতে
বাধ্য হবে।
তিনি সাজেকবাসী জনগণের সাথে সহাবস্থান বজায় রেখে বনবিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার
করার জন্য বাঘাইহাট রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামানকে পরামর্শ
দেন এবং অবিলম্বে লতা চাকমার কাঠ ও জীপ গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
