অনলাইন ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত বছরের ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ছেলে উক্য ছাইং মারমার মৃত্যুর বিচার ও প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ চেয়ে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাবা উসাইমং মারমা।
উক্ত বিমান দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর বিচার ও সরকারের প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ
চেয়ে তিনি গত ৭ মে ২০২৬ ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার
আবেদন করেন। তবে আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও তা খারিজ করে দেন।
আদালতে যাওয়ার কারণে উসাইমং মারমা এখন প্রশাসনের রোষানলে পড়েছেন। পুলিশ
এখন তাকে খুঁজছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন।
এতে তিনি জানান, “শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ২-৩ টার সময় আমি যেখানে চাকরি
করি ওখানে ২০-৩০ জন পুলিশ আমাকে খুঁজছিল এবং আমার নিজ গ্রামের বাড়িতে ও আশেপাশে প্রতিবেশিদের
বাড়িতে আমাকে খোঁজ করে। প্রতিবেশীরা আমাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ
তাদেরকে বলে যে, ‘তার নামে ওয়ারেন্ট থাকায় আমরা তাকে ধরতে এসেছি।’
তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এখন খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
মামলা করাটাই কি আমার অপরাধ ছিল? আমি আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছি, ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।
বিগত সরকার এ বিষয়ে কোন সুরাহা করে নাই, আমি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি। কিন্তু আমি কোন
সুরাহা পাইনি।”
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে তো মারা গেছে। এখন আমার তো কিছুই
নাই আর। আমার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে কোন কিছু একটা করার। আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”
তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি, কেন তাদের বিরুদ্ধে
মামলা করলাম, তার জন্য আমাকে শাস্তি দিতে এখন আমাকে পুলিশ খুঁজছে। ফলে আমার জীবন-যাপনটা
এখন অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।”
এছাড়া বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে জনৈক ওয়ারেন্ট অফিসারও তাকে ফোন
করে ‘তিনি কোথায় চাকরি করেন, তার স্ত্রী কোথায় থাকেন’ ইত্যাদি জানতে চেয়েছেন এবং সেনাবাহিনীও এলাকায় গিয়ে তাকে খোঁজ করেছে বলে তিনি ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন।
তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু সুরাহা পেতে এবং নিরাপদে যাতে জীবন-যাপন করতে পারেন
তার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উসাইমং মারমা তার মামলার আবেদনে মাইলস্টেনের উক্ত দুর্ঘটনায ২৮
জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক ও একজন পরিচালকসহ ৩৫ জন মারা যায়। এছাড়া,
১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সে সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেসময় স্বশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বে ছিলেন। তাই, এফ-৭ যুদ্ধ বিমানটি তার অধীনস্ত ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। সেসময় তিনি (ইউনূস) ক্ষতিগ্রস্ত
পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা দেননি। তাই দায়িত্ব
পালনে অবহেলা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে এই মামলায় তাকে আসামি করার কথাও উসাইমং মারমা তার মামলার আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
