""

সাজেকে জুম্ম ব্যবসায়ীদের শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ!

সংগৃহিত ছবি


সাজেক (রাঙামাটি), সিএইচটি নিউজ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকের দু্র্গম কালুছড়া এলাকায় কয়েকজন জুম্ম ব্যবসায়ীর মজুদকৃত শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ভোর ৪.০০টার সময় এ ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে গেছে।

কে বা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অনেকে ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন। আর অনেকের সন্দেহের তীর জেএসএস সন্তু গ্রুপের দিকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেকের কালু ছড়ার পাড়ে একটি বাঁশের তৈরি ঘরকে আড়ত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের হলুদগুলো মজুদ করে রাখেন। কিন্তু আজ ভোর সকালে কে বা কারা সেই ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মজুদকৃত হলুদ পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- লংতিয়ান পাড়ার কার্বারী মিঠুন জয় ত্রিপুরা, তার মজুদকৃত হলুদের পরিমাণ ৩০০ মণের অধিক। এছাড়া মাচলং এলাকার বাসিন্দা লবেন্দ্র ত্রিপুরার ৩৫ মণ ও কার্তিক কুমার ত্রিপুরার ১৫ মণ হলুদ ছিল বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে ৫ জন ব্যবসায়ীর ৮০০ মণ হলুদের কথা বলা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, উপেন্দ্র ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেখানে তার বাবারও হলুদ ছিল বলে জানিয়েছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০০-৬০০ মণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি হলুদের বস্তাগুলো মাপা ছিল না বলে জানান। 

উক্ত আড়তের পাশে একটি চিরকূট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই চিরকুটে লেখা রয়েছে-“মিথুন কারবারি, তোর ৮৩৯ ও ৩৭৭ নামবারে মেসেজ দিয়েছি। যোগাযোগ করতে বলেছি। তুমি গাবদারি করে করনাই। তাই। এ জন্য খতি করতে বাধ্য হলাম। ০১৮৮৮২৮৫৯০৫ নামবারে যোগাযোগ করবে। আমাদের সাথে সিদান্ত না হইলে কোন রকম ব্যবসা কেনাবেচা লেনদেন বন্ধ রাখবে। চিতিং গাবদারি করে কথা না শুনলে বা সিদান্ত না এলে নানা রকম বড় খতি হবে। কল না পাইলে মেসেজ দেবে। যোগাযোগ রাখবে। তোর জন্য কারো মাল খতি হলে তার খতিপূরন দেবে। সাবদান, সিদান্ত না করে জারতে পারবে না। সুযোগ দিয়েছি বুজ হও। সাবদান সাবদান  সাবদান। বড় খতি করতে বাদ্য করনা।”

হলুদের আড়তের পাশে পাওয়া সেই চিরকূট। সংগৃহিত

চিরকূটে দেওয়া ফোন নাম্বারটি যাচাই করে দেখা গেছে, এর আসল মালিকের নাম: রুনা ত্রিপুরা(২৫) স্বামী: রাজু ত্রিপুরা, পিতা: মৃত নীর কিশোর ত্রিপুরা, মাতা: রংবি ত্রিপুরা, গ্রাম: ব্রজ কুমার কার্বারী পাড়া, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে, উক্ত ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জেএসএস সন্তু গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে ঘটনার সাথে ইউপিডিএফ জড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফের সাজেক ইউনিটের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “জেএসএস সন্তু গ্রুপ হয়তো নিজেরা ঘটনাটি ঘটিয়ে তার দায় ইউপিডিএফের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ইউপিডিএফ জনগণের একটি পার্টি হিসেবে জনগণের কোন ক্ষতি হোক তা কখনো চায় না।”

তারা সন্তু গ্রুপের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, রাতে “বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ” শিরোনামে ইউপিডিএফের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, “রাঙামাটির সাজেকে জুম্ম ব্যবসায়ীদের শুকনো হলুদ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেএসএস সন্তু গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে ঘটনার সাথে ইউপিডিএফকে জড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এতে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের ন্যূনতম কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ইউপিডিএফ সর্বদা জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। কাজেই, জনগণের কোন ক্ষতি হোক ইউপিডিএফ তা কখনো চায় না।

সুতরাং, জেএসএস সন্তু গ্রুপের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই ও তদন্ত করুন। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনার কারণ জানা যাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আমরা জেএসএস সন্তু গ্রুপের জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টাকে ঘৃণা-ধিক্কার জানাচ্ছি এবং হলুদ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনার কারণ উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments