""

সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রামে ডিওয়াইএফের মিছিল ও সমাবেশ


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

“সংকটে অদম্য, লড়াইয়ে অবিচল, সাজেকবাসীর লড়াইয়ে একসাথে চল” এই স্লোগানে সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ), কেন্দ্রীয় কমিটি।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিকালে চট্টগ্রামের ডিসি হিল থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রেস ক্লাব হয়ে চেরাগী পাহাড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি তনুময় চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক থুইনুমং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুর্দশন চাকমা।

সমাবেশে ছাত্রনেতা সোহেল চাকমা বলেন, আমারা বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে আমাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। সাংবিধানিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রমের মানুষদের অবহেলিত করে রাখা হয়েছে।  

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ মনে করেছিল তারা জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা ইউনূস সরকারের সময়ে যেমন শ্রমিক ও পাহাড়িদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন হতে দেখেছি, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তাই দেখছি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি মেনে না নিয়ে পুলিশ দিয়ে হামলা-নির্যাতন করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি মেনে নিতে হবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাজেকবাসী দীর্ঘ এক মাসের অধিক সময় ধরে আন্দোলন করছে। কিন্তু সরকার সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো হামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে তাদের আন্দোলন বানচাল করে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি সেনাশনাসন প্রত্যাহার ও বিএনপি সরকারের গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রিতা চাকমা বলেন, আমরা সাজেকবাসীর আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি। বর্তমানে সাজেকে সেনাবাহিনী ও জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা পার্বত্যবাসী মেনে নেবে না। সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে সেখানকার সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, সাজেকবাসীর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে যেভাবে হামলা, গুলিবর্ষণ, লাঠিচার্জ ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। এক দেশে দুই নীতি চলতে পারে না। সাজেকের উজোবাজারে জনগণের ওপর হামলা ও যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে কল্পনা চাকমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত আমরা কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার পাইনি। সাজেক নিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি সঠিক ও বস্তুনিষ্টভাবে সাজেকের সংকট তুলে ধরার জন্য সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

ছাত্রনেতা সুর্দশন চাকমা বলেন, সাজেকে বর্তমানে যে অবস্থা চলছে তা সমতলের মানুষ জানে না। সেখানে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা জনগণকে হুমকি দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আর সেনাবাহিনী সন্তু গ্রুপের সেই সশস্ত্র সদস্যদের সহযোগিতা দিচ্ছে। সাজেকেবাসীর দাবি হচ্ছে সন্তু লারমা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিয়ে সেখানে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার তা না করে সেনাবাহিনীকে দিয়ে উল্টো আন্দোলনকারী জনগণের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে।


তিনি আরো বলেন, পাহাড়িদের উপর যে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, একদিন তা সমতলেও চালানো হবে। তিনি সাজেকবাসীর ন্যায্য পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে সেখান উদ্ভুত সংকট নিরসন করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে যুবনেতা তনুময় চাকমা বলেন, ‘যেখানে অন্যায়-অত্যাচার হয়, সেখানে মেহনতি জনতা আন্দোলন গড়ে তোলে। সাজেকের সমস্যা সমাধান না করে সেনাবাহিনী ও জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের মাধ্যমে জনগণকে নানা হুমকি-ধমকি ও হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে। নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, “সাজেকবাসীর ওপর সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ ঘটনা আড়াল করার জন্য কথিত গোলাগুলির নাটক মঞ্চস্থ করে কিছু গণমাধ্যমকে দিয়ে ভুয়া সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু পাহাড়ি জনগণ যখন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করে তখন নানা তকমা লাগিয়ে দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে অলিখিত-লিখিত চুক্তির পর থেকে সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারের সুয়োগ-সুবিধা ভোগ করছন। তিনি সরকারের সুয়োগ-সুবিধা ভোগ করে পাহাড়িদের ন্যায়্য অধিকারের আন্দোলন দমনে শাসকগোষ্ঠীর দাবার গুটির মতো ব্যবহৃত হচ্ছেন।

সাজেকবাসীর ন্যায্য ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে অবিলম্বে তাদের দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাজেক সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সাজেকবাসীর দাবি বাস্তবায়নে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশ থেকে তিনি দেশের শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতিও সংহতি জানান এবং তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments