খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অজ্ঞাতদের গুলিতে মো. ইমন হোসেন (২৫) নামে
একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সকাল ৬টার দিকে পানছড়ি সদর-লোগাং
সড়কের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহত মো. ইমন হোসেন পানছড়ির মোহাম্মদপুরের রুহুল আমিনের ছেলে।
বিভিন্ন মিডিয়ায় নিহত ইমন হোসেনকে কথিত “গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ”-এর সদস্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. ইমন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় বিশেষ সংস্থার তত্ত্বাবধানে কথিত “গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ”-এর নামে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছেন। বলতে গেলে চাঁদাবাজির রাজত্ব গড়ে তোলেন। তার চাঁদাবাজিতে এলাকার জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আর তার এই চাঁদাবাজি থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় বিশেষ সংস্থার লোকজনের কাছেও পৌঁছে যেত বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।
![]() |
| ভারী অস্ত্র হাতে ইমন হোসেন। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। |
গত জানুয়ারি মাসে কথিত “গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ” নামধারী ঠ্যাঙাড়েরা বিভক্ত হয়ে পড়লে মূল সর্দার শ্যামল কান্তি চাকমা তরু ও মিটন চাকমা তাদের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে জেএসএস সন্তু গ্রুপের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর অপর অংশটি তরু-মিটনদের বহিষ্কার করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলেও তাদের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাসের সংকট থেকে যায়। ফলে ভিতরে ভিতরে তাদের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এর জের ধরেই ইমন হোসেনের হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় বিশেষ সংস্থার লোকজন নিজেরাই ইমন হোসেনকে হত্যা
করে পানছড়ি বা পাহাড়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে কি-না তাও সন্দেহের বাইরে রাখছেন
না অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারী অস্ত্র হাতে মো ইমন হোসেনের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষভাবে যাচাই করে ছবিটির সত্যতা পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি এভাবে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশে ঘুরে বেড়াতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিছু কিছু মিডিয়ায় ইউপিডিএফকে
জড়িয়ে যে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন দলটির খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক
অংগ্য মারমা। তিনি এ ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে নিশ্চিত
করেছেন।
এ বিষয়ে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ
জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
পরবর্তী আইনী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কে বা কারা ইমনকে হত্যা করেছে, তা এখন পর্যন্ত
নিশ্চিত করা যায়নি।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

