""

শিক্ষাবিদ অনন্ত বিহারী খীসা’র ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনন্ত বিহারী খীসা। ফাইল ছবি

সিএইচটি নিউজ ডেস্ক
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অনন্ত বিহারী খীসা’র আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের আজকের এই দিনে দুপুর বেলায় খাগড়াছড়ি সদরের অনন্ত মাস্টার পাড়ার নিজ বাড়িতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

অনন্ত বিহারী খীসা ১৯৩৭ সালের ১ নভেম্বর মহালছড়ির খুলারাম পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া স্কুলে নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষা ((শিশু শ্রেণী, প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণী), খাগড়াছড়ি এম, ই স্কুলে (Middle English School) তৃতীয় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় (High English School) হতে ৭ম শ্রেণী থেকে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় (বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষার তৎকালীন নাম) উত্তীর্ণ হন। তারপর ঢাকার জগন্নাথ কলেজে দু’বছর পড়ার পর চট্টগ্রামের কানুনগো পাড়া স্যার আশুতোষ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বি,এ পাশ করার পর ছাত্রজীবনের ইতি টানেন। (সূত্র: অনন্ত বিহারী খীসার সাক্ষাতকার)।

অনন্ত বিহারী খীসা একজন অত্যন্ত সৎ, নীতিবান ও গুণী মানুষ ছিলেন। তিনি কখনই যশ, ক্ষমতা ও বিত্তের পিছনে ছুটেননি, যদিও সে সুযোগ তার ছিল। তিনি সচেতনভাবে ক্ষমতা, খ্যাতি ও বিত্তের আকর্ষণ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। 

শিক্ষা বিস্তারে তার বিশাল অবদান ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনালগ্নে ১৯৫০ দশকের শেষের দিকে তিনি পাহাড়ি ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করতে ও জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

১৯৫৬ সালে চট্টগ্রামের কানুনগোপাড়ার শ্রীপুর মেস (চাকমা স্টুডেন্টস লজ)-এ এবি খীসা ও মৃনাল কান্তি চাকমার উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল Chittagong Hill Tracts Hill Students’ Association. এ সংগঠনের পক্ষ থেকে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রথম বারের মতো “আইন পরিষদ সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন” দাবি জানানো হয়।

পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতার পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৬০ সালের ২০ এপ্রিল খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেটের কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ির রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ’৯৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি অবসরে যান।

শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করে এবি খীসা ১৯৬৬ সালে গঠন করেন Chittagong Hill Tracts Tribal Welfare Association.

১৯৭০ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন ও নতুন নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা রাখেন।

অনন্ত বিহারী খীসা শাসকগোষ্ঠী তথা সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন এবং জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জড়িত নেতাকর্মীদের নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন। সাধারণ জনগণকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। যার কারণে তাকে জেলেও যেতে হয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর থেকে আমৃত্যু তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সমাজসেবামূলক নানা কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন।

* অনন্ত বিহারী খীসা সম্পর্কে জানতে আরও পড়ুন:

>> অনন্ত স্যার নিজেই একজন ‘Pioneer’ : যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা

>> আমার দেখা অনন্ত বিহারী খীসা : জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা

>> শিক্ষক ও অন্তরালের কারিগর এবি খীসা (১৯৩৭-২০২১)

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।







0/Post a Comment/Comments