চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
চট্টগ্রাম শহর থেকে র্যাব কর্তৃক ইউপিডিএফ সদস্য নিকেল চাকমা
এবং শ্রমিক ফ্রন্টের বায়েজিদ থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমাকে বিনা কারণে আটক
করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৪ মার্চ ২০২৫) বিকালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক
যুব ফোরাম’র চট্টগ্রাম মহানগর ও চবি শাখার আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পারিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি
সোহেল চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অংহ্লাচিং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা ও গণতান্ত্রিক
যুব ফোরামের চট্টগ্রাম মহাগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শুভ চাক।
রোনাল চাকমা বলেন, আমরা হাসিনার আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের
জনগণের অধিকারের জন্য এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য কথা বলেছে তাদের ওপর দমন-পীড়ন
চালানো হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও মানুষের গণতান্ত্রিক
অধিকার নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ মাসেও তা হয়নি। পার্বত্য
চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এখনো গ্রেফতার, ধরপাকড় চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক কর্মীদের
বার বার টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা যখন গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য কথা বলছি,
তখন আমাদের ওপরি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে গত ২২ মার্চ বিকালে
চট্টগ্রাম শহর থেকে নিকেল চাকমা ও সোহেল চাকমাকে অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার
করা হয়েছে এবং রাঙামাটির কাউখালী থানার মিথ্যা মামলায় তাদেরকে একদিনের রিমাণ্ডে নেওয়া
হয়েছে। আমরা এ গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, গ্রেফতার, দমন-পীড়ন করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে পার্বত্য
চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে দমন করা যাবে না। অবিলম্বে নিকেল চাকমা ও
সোহেল চাকমাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি।
শুভ চাক বলেন, ইউপিডিএফ সদস্য নিকেল চাকমা ও শ্রমিক ফ্রন্টের
বায়েজীদ থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমাকে র্যাব কর্তৃক চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও
এলাকা থেকে বিনা কারণে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাদেরকে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর
করা হলেও তাদেরকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির না করে রাঙামাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতেই
প্রমাণিত হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
তিনি নিকেল ও সোহেলের অপরাধ কী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদেরকে আটক করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, তারা তো কোন অন্যায় করেননি। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষেই আন্দোলন করেছেন। তাহলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই কী তাদের অপরাধ?
মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় তীব্র
নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত-নির্যাতিত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার
আন্দোলন দমনের লক্ষ্যেই তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
তিনি যতই দমন-পীড়ন চালানো হবে ততই আন্দোলন আরো বেগবান হবে উল্লেখ
করে অবিলম্বে নিকেল ও সোহেলকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সোহেল চাকমা বলেন, গত ২২ মার্চ নিকেল চাকমা
ও সোহেল চাকমাকে চট্টগ্রাম শহর থেকে র্যাব কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে
কোন মামলা না থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতারের পর তাদেরকে রাঙামাটিতে নিয়ে গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চব্বিশের জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী
সরকার গঠন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে আগের মতোই দমন-পীড়ন, ধরপাকড় চলছে। জনগণের অধিকারের
পক্ষে যারা লড়াই করছে তাদেরকে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার
মতো র্যাবকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যখনই এদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময়ে খুন, গুমসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকায় র্যাবকে নিষিদ্ধ করার কথা
বলছে তখনই অন্যায় ধরপাকড়ের কাজে আগের মতো আবার র্যাবকে মাঠে নামানো হয়েছে। এতে ফ্যাসিস্ট
হাসিনার আমলে আর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের কোন পার্থক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি
না।
তিনি পাহাড় থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, পাহাড়ে
গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হলেই তবে সারাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
সমাবেশ থেকে তিনি অবিলম্বে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার নিকেল চাকমা
ও সোহেল চাকমার নিঃশর্ত মুক্তি এবং পাহাড়ে চলমান অন্যায় দমন-পীড়ন, ধরপাকড় বন্ধ করার
দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।